কোভিড হাসপাতাল চালাবে বেসরকারি সংস্থা, বিতর্ক

83

আসানসোল: আসানসোলের বার্ণপুরের নিউটাউনে ছোটদিঘারি হাইস্কুলকে বদলে ফেলা হয়েছে পুরোপুরি কোভিড হাসপাতালে। বার্ণপুর ইস্কো কারখানার পরিকাঠামো ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি এই কোভিড হাসপাতাল নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভরসা। ২০০ বেডের অত্যাধুনিক এই হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোভিড কেয়ার জাম্বো ইউনিট’। এই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা অক্সিজেন পাবেন পাইপলাইনের মাধ্যমে। বার্ণপুর ইস্কো কারখানা আইএসপি থেকে অক্সিজেন সরাসরি আসবে রোগীর বেড পর্যন্ত। কিন্তু এই কোভিড কেয়ার ইউনিটকে জেলা প্রশাসন নিজেদের হাতে না নিয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল সংস্থার হাতে। আর এই নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক।

ওই বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য দৈনিক চার্জ নেওয়া হবে ৩ হাজার টাকা। আইসিইউতে ভর্তি হলে তারজন্য অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হবে দৈনিক ৫ হাজার টাকা করে। চিকিৎসার জন্য চার্জ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবারই কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে দুই শ্রমিক সংগঠন ইনটাক ও সিটু।

- Advertisement -

ইস্কোর তৈরি করা পরিকাঠামো ব্যবহার করে, কোনও বেসরকারি সংস্থাকে লাভ পাইয়ে দেওয়া যাবে না। সামাজিক কর্তব্য পালনের অঙ্গ হিসেবে বিনামূল্যে করোনা আক্রান্ত সব মানুষের চিকিৎসা করতে হবে এই হাসপাতালে। এমনই দাবি তুলেছেন শ্রমিক সংগঠনগুলি। সিদ্ধান্ত বদল করা না হলে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে বলে দাবি ইনটাক ও সিটুর নেতাদের।

টাকা নিয়ে রোগী চিকিৎসা করা প্রসঙ্গে আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘বার্ণপুরের ওই হাসপাতালে যদি টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে, তা কোনওভাবেই হতে পারে না। ঠিক কি হয়েছে তা জানছি।’ কিন্তু সরকারের তৈরি হাসপাতালে টাকা চাওয়া হচ্ছে কিভাবে, তা নিয়ে ধন্দ রবিবার বিকেল পর্যন্ত কাটেনি। ইস্কো কারখানার ইডি অনুপ কুমার আগেই জানিয়েছেন, তাঁরা হাসপাতাল তৈরি করে জেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করেছেন। তাই এ নিয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই বা জানেন না।

পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বিভু গোয়েলের দাবি, ‘এই হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরি করা নিয়ে ইস্কোর তরফে চিঠি পেয়েছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার এই হাসপাতালের দায়িত্ব নেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালকে বার্ণপুরের এই হাসপাতালের দায়িত্ব কে দিল?’