ভোটের কাজে করোনা আক্রান্ত আশাকর্মীকে নিয়োগের অভিযোগ

105

পুরাতন মালদা: ভোটের কাজে করোনায় সংক্রামিত আশাকর্মীকে নিয়োগের অভিযোগ উঠল পুরাতন মালদায়। যা নিয়ে তোলপাড় মালদা জেলা।  অভিযোগ,পুরাতন মালদার সাহাপুর জুনিয়র বেসিক স্কুলে মালদা কেন্দ্রের ১৭০ নম্বর বুথে তাঁকে ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন একজন করোনা সংক্রামিতকে নিয়োগ করা হল? তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। তবে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই আশাকর্মী জানান, তাঁর বাড়ি মালদা শহরে। পুরাতন মালদা ব্লকে তিনি কর্মরত। সম্প্রতি তাঁর জ্বর ও কাশি শুরু হয়। প্রথমে সাধারণ ওষুধই খেয়েছিলেন। নিজে একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলে তিনি করোনা সংক্রমণের ঝোড়ো গতির কথা জানেন। তাই গত ২৪ এপ্রিল নিজের ও পরিবারের সকলের কোভিড পরীক্ষা করান। ২৬ তারিখ তাঁর ও তাঁর ছেলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁর স্বামীরও ধুম জ্বর। ভাইরাস সংক্রমণের জেরে তিনি নিজে ভীষণ ক্লান্তিতে ভুগছেন। অন্য অনেক উপসর্গও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে তাঁকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়। তিনি গোটা বিষয়টি বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, এমনকি বিডিওকেও জানান। কিন্তু তাঁকে ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

করোনা সংক্রামিত ওই আশাকর্মী এদিন আরও জানান, গত ২৬ তারিখ মৌলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে অন্যদের সঙ্গে তিনিও ভোটের ট্রেনিং নিয়েছিলেন। তিনি যে কোভিড পজিটিভ, তখনও জানতে পারেননি। বিকেলে রিপোর্ট পাওয়ার পর ওই আশাকর্মী এএনএমকে গোটা বিষয়টি জানান। ২৭ এপ্রিল ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরপর তিনি বিএমওএইচকে ফোনে ঘটনার কথা জানান। কিন্তু বিএমওএইচ তাঁকে উল্টে ব্যঙ্গ করেন বলে অভিযোগ।

ওই আশাকর্মীর বক্তব্য, গতকাল তাঁকে শোকজের চিঠি নিতে সাব সেন্টারে ডাকা হয়। শোকজের চিঠি পাওয়ার পর তাঁকে ব্লকে যেতে বলা হয়। সমস্ত নথিপত্র নিয়ে ওই আশাকর্মী বিডিওর সঙ্গে দেখা করেন। বিডিও তাঁকে জানান, ডিউটি করতেই হবে। প্রয়োজনে আশাকর্মী কে রিজার্ভে থাকতে হবে।

ওই আশাকর্মী এদিন বুথে গিয়ে সমস্ত ঘটনা জানালে প্রথমে তাঁর কাছেই ঘেঁষতে চাননি কোনও ভোটকর্মী কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তবে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই টনক নড়ে প্রশাসনের। তড়িঘড়ি ওই কর্মীকে রিলিজ অর্ডার দেন সংশ্লিষ্ট বুথের প্রিসাইডিং অফিসার।

এ প্রসঙ্গে মালদা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার তথা বিডিও ইরফান হাবিব বলেন, ২৭ এপ্রিলই করোনা সংক্রামিত ওই আশাকর্মীর জায়গায় অন্য এক কর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও তিনি এদিন কেন ভোটকেন্দ্রে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) বৈভব চৌধুরীর বক্তব্য, পুরাতন মালদা বিডিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই আশাকর্মীকে আগেই রিলিজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ডিউটিতে পাঠানো হয়নি। অন্য আশাকর্মীকে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে।