এলেন না প্রতিবেশিরা, কোভিডে মৃত বধূর দেহ উদ্ধারে প্রশাসন

119

বর্ধমান, ২৮ মে: করোনা আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে গোটা গ্রাম। তাই কোভিডে আক্রান্ত মৃত বধূর দেহ সৎকারে কেউ এগিয়ে এলেন না। শুক্রবার সারাদিন বাড়িতেই পড়ে থাকল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জামুদহ গ্রামের বধূ পম্পা নন্দীর মৃতদেহ। প্রশাসন মৃতদেহ উদ্ধারের ব্যবস্থা করলেও, গ্রামের শ্মশানে মৃতদেহ সৎকার করা নিয়েও আপত্তি উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে বধূর মৃতদেহ বর্ধমানের নির্মলঝিল শ্মশানে সৎকারের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে পরিজনদের কেউ যেমন যাওয়ার আগ্রহ দেখাননি। তেমনই পাড়ার কেউই আগ্রহ দেখালেন না।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুরের থানার বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত
এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম জামুদহ। এই গ্রামেই শ্বশুর বাড়ি বছর ৩৬ বয়সি বধূ পম্পা নন্দীর। তাঁর স্বামী ও একমাত্র অন্তঃসত্ত্বা মেয়েও কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। বধূর স্বামী তাঁর মেয়ের বাড়িতেই রয়েছেন। সম্প্রতি বধূর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। তাঁর কোভিড পরীক্ষা করানো হলে, গত ২৬ মে তাঁর কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। বাড়িতেই থেকেই কোভিডের ওষুধ-পত্র খাচ্ছিলেন বধূ। কিন্তু, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শুক্রবার বাড়িতেই বধূর মূত্যু হয়। এরপর বধূর মৃতদেহ সৎকার নিয়ে গোটা বিপত্তি তৈরি হয়।

- Advertisement -

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, এদিন দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ খবর আসে জামুদহ গ্রামের কোভিডে মৃত ১ মহিলার দেহ বাড়িতেই পড়ে রয়েছে। সংক্রামিত হওয়ার আতঙ্কে কেউ মৃতদেহে হাত লাগাতে চাইছেন না। মৃতদেহ সৎকারেও কেউ যেতে চাইছেন না। বিষয়টি জানার পরেই বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপরই পঞ্চায়েত কর্মী অমিত মণ্ডল ও পঞ্চায়েত সদস্য শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত বধূর দেহ উদ্ধারে বিশেষভাবে তৎপরতা শুরু করেন। জামালপুর ব্লক হাসপাতাল থেকে বধূর মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি, পিপিই কিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক ডেকে দেন। তাঁরাই পিপিই কিট পড়ে মৃতদেহ ঘর থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। সৎকারের জন্য ওই মহিলার মৃতদেহ গ্রামের শ্মশানের পরিবর্তে বর্ধমানের নির্মলঝিল শ্মশানে পাঠানো হয়েছে।