কাজ নেই, বসে থেকে মন ভার ভিআরডিএলের কর্মীদের

291

শিলিগুড়ি : এ যেন উলটপুরাণ। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির (ভিআরডিএল) কর্মীদের নাওয়া-খাওয়ার সময় ছিল না। লালার নমুনার পাহাড় জমে যাওয়ায় নমুনা কম পাঠানোর জন্য প্রতিটি জেলায় একাধিকবার নির্দেশ পাঠানো হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ভিআরডিএলের পরিস্থিতি পুরো বদলে গিয়েছে। একাধিক জেলায় লালার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হওয়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ভিআরডিএলে চাপ কমেছে। তাই এখন চিকিৎসক সহ অন্য কর্মীদের প্রায় বসে বসেই দিন কাটছে। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকারের খেদোক্তি, হাতে কাজ না থাকলে ভালো লাগে না। আমার সহযোদ্ধাদের মন ভার। কোনও জেলা থেকেই তেমন নমুনা আসছে না। বসে বসে আর ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত ২০০০ লালার নমুনা চাইছি। প্রত্যেক জেলাকেই বলা হচ্ছে ইচ্ছেমতো লালার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠান।

গত ২৬ মার্চ উত্তরবঙ্গে প্রথম করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। ২৯ মার্চ উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভিআরডিএল চালু হয়। প্রথমদিন থেকেই দুটি রিয়্যাল টাইম পলিমারাস চেইন রিয়্যাকশন (আরটি-পিসিআর)-এ মালদা থেকে কোচবিহার- উত্তরবঙ্গের আট জেলার নমুনা এখানে পাঠানো শুরু হয়। প্রত্যেকটি জেলা থেকেই প্রথম সাতদিনে এখানে নমুনা এসেছিল গড়ে ২০-২৫টি করে। কিন্তু এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরার পর প্রত্যেক জেলা থেকেই লালার নমুনা সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ভিআরডিএলে পাঠানো শুরু হয়। ততদিনে অবশ্য মালদা মেডিকেলের ভিআরডিএলও চালু করার তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু পরিকাঠামো কিছুটা কম থাকায় সেখানে প্রথম দিকে খুব কম নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল। ফলে মালদার পার্শ্ববর্তী জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ভিআরডিএলে লালার নমুনা আসছিল। মে মাসের মাঝামাঝি সময় প্রত্যেকটি জেলা থেকে মেডিকেলের ভিআরডিএলের প্রতিদিনের ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি লালার নমুনা আসতে শুরু করে। এই অবস্থায় প্রতিটি জেলাকেই সর্বাধিক ৫০টি নমুনা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে মধ্যেই এখানে অটোমেটেড আরএনএ এক্সট্রাকটর মেশিনও বসানো হয়। আটদিনের মধ্যে ব্যাকলগ পুরোপুরি শেষ করে লালার নমুনা পৌঁছানোর ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। ২২ জুন পর্যন্ত জেলাগুলি থেকে প্রচুর নমুনা আাসায় এখানকার বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সমস্ত ফ্যাকাল্টি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সহ অন্যরা খুব চাপের মধ্যে কাজ করেছেন। আট ঘণ্টা ডিউটি করে ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবার এসে ডিউটি করতে হয়েছে, এমনও দিন গিয়ছেে কর্মীদের। সরকারি হিসাবে (স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন) এখনও পর্যন্ত এই ভিআরডিএলে ৫১ হাজার লালার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ সূত্রের খবর, এখানে লালার নমুনা পরীক্ষা ৫৬ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গত একসপ্তাহ ধরে কাজের চাপই নেই ভিআরডিএলে। বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকার বলেন, আমাদের এখানে বর্তমানে যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে প্রতিদিন ২,০০০-২,২০০ নমুনার পরীক্ষা করতে পারব। কিন্তু নমুনা আসছে ৬০০-৭০০টি করে। ফলে কর্মীদের হাতে কাজই নেই। আমরা ব্যস্ততার মধ্যেই ভালো ছিলাম। এখন কাজ না থাকায় ভালো লাগছে না। আমরা প্রত্যেকটি জেলা থেকেই যতটা সম্ভব লালার নমুনা সংগ্রহ করে এখানে পাঠাতে বলেছি। মালদায় দৈনিক পরীক্ষার পরিমাণ বেড়েছে, রায়গঞ্জে ভিআরডিএল চালু হয়েছে। কোচবিহারে পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। সিকিমেও ইতিমধ্যেই ভিআরডিএল চালু হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে নমুনা কম আসছে বলে তিনি জানান।

- Advertisement -