এপ্রিল-জুনে ভারতের খোলাবাজারে কোভিড ভ্যাকসিন

284

নয়াদিল্লি: আগামী বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ভারতের খোলাবাজারে কোভিড টিকা পাওয়া যেতে পারে। দেশি বা বিদেশি, টিকা যে সংস্থারই হোক না কেন, ভারতে তার দাম ঠিক করে দেবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। শুধু একটি টিকা নয়, একাধিক টিকা একসঙ্গে বাজারে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ওই মন্ত্রক সূত্রের খবর।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাকরণের জন্য কোভিড যোদ্ধা, প্রবীণ নাগরিক সহ চিহ্নিত গোষ্ঠীগুলি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা গাঁটের কড়ি খরচ করে টিকা নিতে চাইবেন, তাঁদেরও নিরাশ করা হবে না। সূত্রের খবর, নতুন বছরের জানুয়ারিতে অন্তত একটি কোভিড টিকার অনুমোদন দিতে জোর চেষ্টা চলছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে। প্রথমেই যেহেতু বিপুল পরিমাণ টিকার ডোজ হাতে আসবে না, তাই প্রাথমিক ভাবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীকে টিকা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সর্বভারতীয় স্তরে গণটিকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যায় টিকার ডোজ পাওয়ার দিকেই এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, সরকার আশা করছে, আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আরও ভ্যাকসিন অনুমোদিত হবে এবং এগুলি জাতীয় গণটিকাকরণ কর্মসূচির বাইরে খোলাবাজারে কেনার জন্য সরবরাহ করা য়াবে।

- Advertisement -

ভারতে এই মুহূর্তে পাঁচটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন মানব পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, যা তৈরি করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। আইসিএমআর-এর সঙ্গে যৌথভাবে কোভ্যাকসিন টিকা তৈরি করছে ভারত বায়োটেক। ড. রেড্ডির সংস্থা আরডিআইএফ-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে টিকা তৈরি করছে স্পুটনিক ভি এবং জাইডাস ক্যাডিলা তৈরি করছে আরও একটি টিকা। এই চারটি সংস্থার টিকার তৃতীয় পর্বের মানব পরীক্ষা চলছে এখন। ওই পরীক্ষা পর্ব মার্চ মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাহলে সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টিকা পাওয়া যাবে ওই চারটি সংস্থার কাছ থেকে। এছাড়া বিদেশি ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাও আপাতত ভারতের বাজারে ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউট বলে দিয়েছে, বিক্রির অনুমতি পেলেই তারা বাজারে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

ভারতে কোভিড টিকাকরণ নিয়ে সলতে পাকানোর পর্ব চলার মধ্যে আমেরিকায় জোরকদমে টিকাকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। মার্কিন মুলুকে প্রথম ১০ দিনে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র ডিরেক্টর রবার্ট রেডফিল্ড। তবে যে গতিতে টিকাকরণ হচ্ছে, তাতে বর্ষশেষ হওয়ার আগে ২ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা প্রশাসনের উপদেষ্টা মনসেফ স্লাউইয়ের।