বেড মেলেনি, গাছতলায় ঠাঁই করোনা যোদ্ধার

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে তিনিও একজন সৈনিক। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিজেই স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। কালিয়াচকের আকন্দবেড়িয়া এলাকার এক আশাকর্মী বেড না পেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কলকাতার পিজি হাসপাতালের বাইরে পড়ে রয়েছেন। ক্যানসার ও জন্ডিসের মতো অসুখে আক্রান্ত হলেও এসএসকেএম হাসপাতালে বেড মেলেনি বলে অভিযোগ। তাঁর একমাত্র ছেলে মাকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে গাছের তলায় রাত কাটাচ্ছেন। একজন আশাকর্মীর এমন দুরবস্থার কথা মালদা জেলায় পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসেছে কালিয়াচক-২ ব্লক স্বাস্থ্য প্রশাসন। ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা চাঁদা তুলে ওই সহকর্মীর চিকিৎসার সুব্যবস্থা করবেন।

অসুস্থ ওই আশাকর্মীর নাম কমলাবালা মণ্ডল। বাড়ি কালিয়াচক-২ ব্লকের আকন্দবেড়িয়া এলাকায়। বাঙ্গীটোলার বড় ফিল্ড কলোনিতে দীর্ঘদিন থেকে কর্মরত। গত দুই মাসে ওই এলাকারই ছয়জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ওই এলাকারই এক প্রসূতি করোনা সংক্রামিত হওয়ায় স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তাঁকে নিয়মিত পরিষেবা দিয়েছেন আশাকর্মী কমলাবালা মণ্ডল। সম্প্রতি তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়লে কলকাতার একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ক্যানসার ও জন্ডিস ধরা পড়ে। সেপ্টেম্বর মাসেই তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এসএসকেএম হাসপাতালের আউটডোরে তাঁকে চিকিৎসার পর ভর্তি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বেডের অভাবে তাঁকে ভর্তি করা যায়নি। গত সাতদিন ধরেছে এসএসকেএম হাসপাতালের বাইরেই তিনি পড়ে রয়েছেন। দিনের পর দিন এই আশাকর্মীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় চিন্তিত তাঁর পরিবার।

- Advertisement -

তাঁর ছেলে মৃন্ময় মণ্ডল বলেন, তিন-চারদিন ধরে আমরা এসএসকেএম হাসপাতালের এক দরজা থেকে আরেক দরজা ঘুরে বেড়াচ্ছি। আউটডোরে মাকে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও বেডের অভাবে ভর্তি করাতে পারছি না। আউটডোরের বাইরে একটা গাছতলায় মাকে নিয়ে পড়ে আছি। কোনও চিকিৎসা পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত মাকে বাঁচাতে পারব কি না বুঝতে পারছি না।

কালিয়াচক-২ ব্লক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কৌশিক মিস্ত্রি বলেন, কালিয়াচক-২ ব্লকে ১৯০ জন আশাকর্মী রয়েছেন। প্রতিটি বুথে গত দুইমাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন তাঁরা। ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকদের নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং যথাসময়ে আমাদেরকে রিপোর্ট প্রদান করেছেন। গত কয়েক মাসে করোনা যুদ্ধ তাঁরাই অন্যতম সৈনিক হিসেবে কাজ করে চলেছেন। অথচ তাঁদেরই একজন স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন না। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।