রাতে ফসল কেটে দিচ্ছে গোরু পাচারকারীরা

243
ফাইল ছবি

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : শীতে কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে ফাঁসিদেওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম ধনিয়া মোড় এবং বাণেশ্বরজোত দিয়ে গোরু পাচারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দার্জিলিং জেলা পুলিশের ফাঁসিদেওয়া থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাংলাদেশি পাচারকারীদের আনাগোনার অভিযোগ উঠলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বেজায় খাপ্পা এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারত ভূখণ্ডের চাষের জমির ওপর দিয়ে গোরু বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। অথচ, ঢিল ছোড়া দূরত্বে থানা থাকলেও পুলিশ তা রুখতে পারছে না। তাই পাচারকারীদের রুখতে বিএসএফ-এর ৫১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে যৌথভাবে গ্রামের বাসিন্দারা রাতপাহারা দিচ্ছেন। পাচারে বাধা পেয়ে রাতের অন্ধকারে জমির ফসল কেটে দিচ্ছে পাচারকারীরা।

বুধবার ক্ষুব্ধ জনতা সীমান্তে মহানন্দা নদীতে কর্মরত মহম্মদ রাকিব (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে নিয়ে আসে বলে খবর। সে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার উত্তর কাশিমগছের বাসিন্দা। পরে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। তবে, ওই যুবক গোরু পাচারের সঙ্গে কোনওভাবে জড়িত কি না তা স্পষ্ট হয়নি। তাই, আইন মেনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিএসএফ-এর এক জওয়ান জানিয়েছেন। এরপর ওই যুবককে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের জওয়ানরা উদ্ধার করে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন এক যুবককে বেশ কিছু গোরু নিয়ে সীমান্ত পার হতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে, এদিন এক ব্যক্তির জমিতে বেগুন গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের ফেন্সিং না থাকায়, ওই এলাকাটি এখন গোরু পাচারকারীদের অন্যতম করিডর হয়ে উঠেছে। বাণেশ্বরজোতের বাসিন্দা উত্তম বিশ্বকর্মা বলেন, প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে অবাধে গোরু পাচার হচ্ছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে গোরু পাচারের সময় জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এটা রুখতে আমরা পাহারা দিচ্ছি। পাচারে সমস্যা হওয়ায় ওরা জমির ফসল কেটে দিয়েছিল। আমরা সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশিকে আটক করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছি। রমেশ বিশ্বকর্মা বলেন, আমরা চাই, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।

গোরু পাচারের প্রসঙ্গে ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা অনিল ঘোষ বলেন, থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এই কারবারে ভারতীয় জমিতে এভাবে কৃষকের ক্ষতি হলেও পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করেনি। সেই কারণেই দিনের আলোয় গোরু পাচার চলছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ সীমান্তের এপারে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশি পাচারকারীরা কাঁটাতার পেরিয়ে এদেশে এসে খোলাবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই বাড়বাড়ন্ত বন্ধ হওয়া প্রযোজন। এ বিষয়ে ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত বলেন, সীমান্তে পাচার রুখতে রাতে বিএসএফ-এর সঙ্গে পুলিশ যৌথ পেট্রলিং করছে। নদী থেকে বালি তোলার সময় এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রামবাসীরা আটক করেছিল বলে শুনেছি। দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা হবে।