গোরু পাচার কাণ্ডে বিনয় মিশ্রের ভাইকে গ্রেপ্তার ইডি’র

108

কলকাতা: গোরু পাচার কাণ্ডে তৃণমূল যুব নেতা বিনয় মিশ্রের ভাই বিকাশকে গ্রেপ্তার করা হল। মঙ্গলবার বিনয় মিশ্রের ভাইকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ফোনের টাওয়ারের লোকেশন ধরে দিল্লি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনও ফেরার রয়েছে বিনয় মিশ্র। এদিন ইডি-র তরফে জানানো হয়, বিকাশকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে, তদন্ত সাপেক্ষে তাকে ইডি-র হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার চক্রের তদন্ত শুরু করার পরপরই সিবিআই এর পক্ষ থেকে বিনয় মিশ্রের ভাই বিকাশ মিশ্র ও তার খুড়তুতো ভাই তথা বাঁকুড়ার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ইনস্পেক্টর অশোক মিশ্রকে কয়েকবার ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে সময় সিবিআই এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল তাদের কাছ থেকে বিনয়ের খোঁজ বের করা। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে সিবিআইএর গোয়েন্দারা যখন কয়লা পাচারের টাকা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের হাতে পাওয়া নথিপত্র দেখিয়ে বিকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্যোগ নিতেই বিকাশ গা-ঢাকা দেয়। সিবিআইএর পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার জন্য লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। অবশেষে এদিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইডি-র অফিসারেরা বিকাশকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হন।

- Advertisement -

অপরদিকে, এদিন কয়লা পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা অমিত আগরওয়াল নামে বিনয় ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তারা একদিকে যেমন অমিত আগরওয়ালের কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি ও বরাকর এর বাড়িতে যেমন তল্লাশি চালায় তেমনি তল্লাশি চালায় তার দুর্গাপুর, আসানসোল, কুলটির ডেরা ও কাঁকসায় অমিত আগরওয়ালের কারখানাতেও। সিবিআই সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায় ওই তল্লাশিতে তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র হাতে পেয়েছেন।

এদিন সারদাকাণ্ডের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে পুনরায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে কুণাল আগের মতোই জানান যে, সিবিআই ও ইডি-র পক্ষ থেকে তাকে যতবার ডেকে পাঠানো হবে ততোবারই তিনি হাজিরা দেবেন এবং তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরদার মতোই একটি চিটফান্ড সংস্থা ছিল অ্যালকেমিস্ট। তার মালিক কেডি সিং বর্তমানে জেলে রয়েছেন। কিন্তু ওই চিটফান্ড সংসার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর যিনি ছিলেন তিনি ভোটের মুখে সভা করে বেড়াচ্ছেন। তাকে কোনওমতেই ধরা হচ্ছে না। তিনি এর প্রতিবাদ বারবার করবেন।

একদা খুব স্বল্প সময়ের জন্য অ্যালকেমিস্ট এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। পরে কুণালই তাকে আবার সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে সারদার ব্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত করেছিলেন। ইতিপূর্বে সিবিআই সারদাকাণ্ডে মিঠুন চক্রবর্তীকে ডাকাডাকি করলে তিনি সারদার থেকে যে টাকা পেয়েছিলেন সেই টাকা সব সিবিআইকে ফেরত দিয়ে দেন। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয়েছিল। মিঠুন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করেন ও রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।