গৌতম সরকার  মেখলিগঞ্জ : ধরা পড়ছে বড়ো গোরু। কিন্তু রাতারাতি সেই গোরু বদলে গিয়ে বাছুরে পরিণত হচ্ছে। অভিযোগ, পুলিশ এবং প্রশাসনের একটি অংশের কারসাজিতে এই কারবার চলছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের সময় যে সব গোরু উদ্ধার হচ্ছে, সেগুলি সবই বড়ো জাতের। কিন্তু নিলামের সময় সেইসব গোরু আড়াল করে রাখা হচ্ছে। পরিবর্তে ছোটো গোরু কিংবা বাছুর সামনে আনা হচ্ছে। এতে সরকারের প্রচুর রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

অভিনব এই অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি তুলেছেন মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়ে সমিতির প্রাণী ও মত্স্য কর্মাধ্যক্ষ বাবুল হোসেন। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়াকেও জানিয়েছেন। যার প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন জেলা এবং রাজ্যস্তরের প্রশাসনের কর্তাদের কাছেও। প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে পাচারের সময় বিএসএফের হাতে গোরু উদ্ধার হলে তারা নিয়ম মেনে সেগুলি পুলিশকে দিয়ে থাকেন। এরপর সেগুলির ঠাঁই হয় খোঁয়াড়ে। তারপর প্রশাসনের গড়া নির্দিষ্ট দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া গোরুর দর নির্ধারণ করা হয়। বাবুল সাহেবের বক্তব্য, সম্প্রতি উদ্ধার করা গোরু মার্কিং করতে কুচলিবাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানেই কুচলিবাড়ি থানার পুলিশের অধীনে রাখা গোরু নিলামের জন্য তিনি হাজির হন। তাঁর সঙ্গে ব্লকের বিএলডিও দেবাশিস বর্মন এবং কুচলিবাড়ি থানার ওসি সুভাষ রায়ও ছিলেন। কিন্তু সেখানে যে সব গোরু তাঁদের সামনে হাজির করা হয়, সেটা দেখে সন্দেহ হয় প্রাণী কর্মাধ্যক্ষর। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট খোঁয়াড়ে বন্ধ ঘরে বড়ো জাতের গোরু দেখতে পেলেও পুলিশের নির্দেশে বাইরে থেকে ছোটো ছোটো অসুস্থ গোরু জোগাড় করে আনা হয়। বহুমূল্যের গোরু উদ্ধার হলেও যে সব গোরু নিলামের জন্য দেখানো হচ্ছিল, সেগুলির মূল্য অনেক কম। দুর্বল গোরু দেখিয়ে তাঁকে মনগড়া মূল্য তালিকায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়। কিন্তু সেটা তিনি করতে রাজি হননি। এরপর বাবুল হোসেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিডিওর কাছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত সমিতির অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও আলোচনা হয়। বাবুল সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে।

মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, বাবুল হোসেন সীমান্তে গোরু উদ্ধারের পর বড়ো গোরু আড়াল করে ছোটো গোরু দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টির সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েচ সমিতির কুচলিবাড়ি এলাকার সদস্য তথা বিদ্যুত কর্মাধ্যক্ষ বাপি চক্রবর্তী বলেন, এখানে পুলিশের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। গোরু বদল নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি করেন তিনি। যদিও কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ এবং মেখলিগঞ্জ পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ সীমান্তে গোরু উদ্ধার হওয়ার পর বিএসএফ নথিপত্র দিয়ে তাঁদের কাছে জমা করেন। তাই বদলের কোনো প্রশ্নই নেই। এছাড়াও গোরুর মূল্য নির্ধারণও তারা করে না বলে পুলিশ জানায়। কুচিলবাড়ি থানার ওসি সুভাষ বর্মনও অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিএলডিও দেবাশিস বর্মন। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।