লড়াইয়ে থাকুক বামেরা, করণদিঘিতে চায় তৃণমূল

134

বরুণ মজুমদার, ডালখোলা : পরিবর্তনের ঝড়ের মধ্যেও ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে অধরা থেকে গিয়েছিল করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১৬ সালে সংখ্যালঘু ও রাজবংশী ভোট ভাঙিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মনোদেব সিনহা। এবারে দল তাঁকে প্রার্থী না করায় বৃহস্পতিবার তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। করণদিঘিতে  এ নিয়ে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ১৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। করণদিঘি একদা বামেদের গড় ছিল। বামেদের গড়ে বিজেপি থাবা বসানোয় চাপে পড়ে তৃণমূল। এরপর শুরু হয় গোষ্ঠীকোন্দল। মনোদেব সিনহার বিরুদ্ধে গৌতম পাল গোষ্ঠী সরব হলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মনোদেব। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পান গৌতম পাল।

- Advertisement -

বাম-কংগ্রেস জোট এখানে মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি এবং অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে ভোটের ময়দানে কোমর বেঁধে নেমেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক অপূর্ব পাল বলেন, সংখ্যালঘু এবং রাজবংশী ভোট ফিরিয়ে আনতে আমরা মানুষের দুয়ারে যাব। মানুষ এবার আমাদের পক্ষেই রায় দেবেন। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বামেদের ঘরে সিঁদ কেটেই বিজেপি এখানে লিড পেয়েছিল। একথা এখন জলের মতো পরিষ্কার।

তৃণমূল চাইছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে ময়দানে থাকুক বাম জোট। কারণ বামেরা নিজেদের ভোট উদ্ধার করতে পারলে বিজেপির ঝুলিতে ভোট অনেকটাই কমবে। ফরওয়ার্ড ব্লক জেলা সম্পাদক গোকুলবিহারী রায় বলেন, লোকসভা ভোটের হিসেব মিলবে না। এখন করণদিঘিতে বাম-কংগ্রেস জোট মজবুত হয়েছে। লোক আমাদের ছেড়ে যায়নি। আমরা মানুষের পাশে আগেও ছিলাম এখনও আছি, আগামীতেও থাকব।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সরকার বলেন, করণদিঘিতে বিজেপির জয় শুধু সময়ে অপেক্ষা। এই কেন্দ্রটি বিজেপির সবচেয়ে নিশ্চিত ও নিরাপদ আসন। গত লোকসভা নির্বাচনের থেকেও বেশি ভোট পেয়ে এখানে আমরা জিতব।

উত্তর দিনাজপুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, করণদিঘি বিধানসভায় এবারে বিপুল ভোটে জিতব। কারণ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে যে ভুল করেছে, তা বুঝতে পেরেছেন। এছাড়া ৩৪ বছর বামেদের দেখেছেন, বামেরা বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখেই মানুষ ভোট দেবেন।