সিপিএমের টুম্পা গানে বিতর্ক, গায়ক জলপাইগুড়ির

162

নিউজ ব্যুরো : আচমকা ভোটের বাজারে সিপিএমের প্রচারে ঢুকে পড়ল টুম্পা সোনা। যে গান পুজোর আগে থেকে বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছে তার প্যারোডি। এবং এখানে জড়িয়ে গেল জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির দুই তরুণের নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া গানটির গায়ক জলপাইগুড়ি শহরের ছেলে নিলাব্জ নিয়োগী। সেখানকার চার নম্বর গুমটির পানপাড়ার বাসিন্দা নিলাব্জ স্কুল জীবন থেকেই এসএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। প্যারোডিতেই টুম্পা সোনার উদ্দেশে ‘তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব, চেন ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাব’-র কথা বলা হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রাক্তন নিলাব্জ প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় তাঁর স্নাতক ডিগ্রি পান ২০১৬ সালে। পড়াশোনার পাশাপাশি গানের শখকে হাতিয়ার করেই কলকাতায় নিজস্ব স্টুডিও বানিয়ে ফেলেছেন। পেশাদারভাবে মিউজিক কম্পোজের কাজ করার নেশার সঙ্গেই বাম রাজনীতিতে তাঁর যোগাযোগ। সেই সূত্রেই সিপিএম ডিজিটালের সদস্য হওয়া। এরপর এগারোজনের টিমের এই টুম্পা ব্রিগেড চল গান তৈরি। প্যারোডির লেখা নিলাব্জদের দলেরই রাহুল পালের। এরপর গ্রাফিক্স, এফেক্ট এবং মিউজিক অ্যারেঞ্জ- সব মিলে তৈরি গান। র্যাপ সহ পুরো গানটিই নিলাব্জর গাওয়া। নিলাব্জ বলেন, এতটা হিট করে যাবে ভাবিনি। ভালো লাগছে সকলের ভালো লাগায়।

- Advertisement -

১১ জনের টিমে এডিটিং থেকে প্ল্যানিংয়ের কাজে ছিলেন শিলিগুড়ির এক তরুণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছে তাঁর। বললেন, আমরা সকলে মিলে কাজটি করেছি। তবে যুবসমাজ যাতে জনপ্রিয় এই টুম্পা গানে আমাদের মেসেজটা বুঝতে পারে সেই চেষ্টা করেছি। এ গান অসংখ্য বাম সমর্থকের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। তাতেই জমাট বেঁধেছে বিতর্ক। যে সিপিএম সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাসদের গণসংগীত প্রচারে ব্যবহার করত, তারা কী করে টুম্পার দ্বারস্থ হয়?

ইতিমধ্যে বিজেপির জয় শ্রীরাম এর সঙ্গে তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানের জোর টক্কর চলছে প্রতিদিন। কিন্তু কেন এমন স্রোতে গা ভাসাতে সিপিএমকে? সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, আমরা শতফুল বিকশিত হোক ধারণায় বিশ্বাস করি। ভাইরাল হয়েছে মানে ধরে নিতে হবে জনপ্রিয় হয়েছে। আমাদের এই সৃষ্টিগুলি পেড আইটি সেলের কাজ নয়। এগুলি স্বতঃস্ফূর্ত  এবং অমূল্য।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ি বলেন, প্রত্যেকটি বয়সের নিজস্ব ভাষা আছে। যে ভাষায় আমি কথা বলি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিশ্চয়ই তার চেয়ে ভিন্ন ভাষায় কথা বলবে। তাঁর প্রশ্ন, উচ্চাঙ্গ সংগীতই যে একমাত্র সংস্কৃতি, সেটা কোথায় সিদ্ধান্ত হল? ডিওয়াইএফআই নেতা শতরূপ ঘোষের ব্যাখ্যা, আমরা এটাকে অস্বাভাবিক হিসেবে ভাবছি না। আগেও প্রচারের অংশ হিসেবে আমরা গান, কবিতাকে ব্যবহার করেছি। সময়ে চাহিদা অনুযায়ী প্রচারের ভাষা বদলায়। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের মতে, মানুষ যে ভাষায় কথা বলে, প্রচারও ততটাই সহজ ভাষায় হওয়া উচিত। মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের ভাষা বা সংস্কৃতিকে কি আমরা অপসংস্কৃতি বলতে পারি?

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সিপিএমের এই প্রচারকে একহাত নিয়েছে। তণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, সিপিএমের ভোট কমতে কমতে ৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ওরা বিভ্রান্ত। ওরা মার্কসবাদী থেকে টুম্পাবাদীতে কী করে ভোট বাড়াবে বুঝতে না পেরে এই দেউলিয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর ধারণা, জয় শ্রীরাম, খেলা হবে কিংবা টুম্পা সোনা এগুলি ভোটে প্রভাব ফেলে না। রাজনৈতিক প্রচারের এই ভাষা সম্পর্কে হতাশ গোখেল মেমোরিয়াল গার্লস কলেজের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট সেলস প্রোমোশন বিভাগের অতিথি অধ্যাপক সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ভাষা সর্বদা মানুষের রুচির পরিচয়। তাই এক্ষেত্রে যাঁরা এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন, তাঁদের রুচিবোধের বিষয়টা মাথায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে টুম্পা বিতর্ক চরমে।