তৃণমূলের ধাঁচে শিলিগুড়িতে রিপোর্ট কার্ড বানাচ্ছে সিপিএম

181

শিলিগুড়ি : তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে প্রচারে পাল্লা দিতে এবারে শিলিগুড়ি পুরনিগমে উন্নয়নমূলক কাজের বোর্ড লাগাবে সিপিএম। পাশাপাশি বিগত পাঁচ বছরে পুরনিগমের মাধ্যমে অশোক ভট্টাচার্যরা যে কাজ করেছেন তার রিপোর্ট কার্ড বানিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে তৃণমূলের ধাঁচে এবার শহরের ক্লাবগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

ঠিক হয়েছে, শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্তর্গত বিভিন্ন ক্লাবকে মোট ১০টি টেবিল টেনিস বোর্ড দেওয়া হবে। বেশ কিছু ক্লাবকে আবার ফুটবলও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে জনসংযোগ বাড়াতে শুধু বাড়ি বাড়ি যাওয়াই নয়, সাধারণ মানুষের মন জয় করতে এবার প্রচারের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে সিপিএম। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের যে প্রচার তৃণমূল কংগ্রেস করে তার সিকিভাগও শিলিগুড়িতে করে উঠতে পারেনি সিপিএম। অথচ শিলিগুড়ি শহরে পুরনিগম নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ খরচ করে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করছে। সেই উন্নয়নের কাজ প্রচারের অভাবে মানুষ সেভাবে জানতেই পারছেন না বলে সিপিএম মনে করছে। সেই কারণে উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারের দিকে এবার নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম পরিচালিত শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলী। পুরনিগম সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে শহরে পুরনিগমের নিজস্ব অর্থে প্রায় ১০০টির মতো কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। শহরের ১৬, ২১ সহ বেশ কিছু ওয়ার্ডে ম্যাস্টিক রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাস্তার কাজ হচ্ছে শহরে। তাছাড়া নিকাশি সহ অন্য বেশ কিছু কাজে আরও প্রায় ৮৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। তবে কাজ হলেও প্রচারের জন্য বোর্ড লাগানোর দস্তুর নেই বামেদের।

- Advertisement -

কিন্তু এবার তৃণমূলের ধাঁচে উন্নয়ন কাজের পাশে বোর্ড লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা কোথাও বোর্ড লাগাই না। যার ফলে নাগরিকরা বুঝতে পারেন না যে কাজটা কারা করেছে। তাই এবার থেকে আমরা বোর্ড লাগাব। আমরা আর প্রচারে পিছিয়ে থাকব না। শুধু বোর্ড লাগানোই নয়, গত পাঁচ বছরে শিলিগুড়ি পুরনিগম যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তার একটি রিপোর্ট কার্ড তৈরি করে নাগরিকদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অশোক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যেসব কাজ করেছি তার একটা লিখিত রিপোর্ট তৈরি করছি। সেই রিপোর্ট কার্ড আমরা প্রতিটি বুথে বুথে পৌঁছে দেব। পুরো বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, অশোকবাবুর রিপোর্ট কার্ড মানুষ তৈরি করে ফেলেছেন। এবার ওনার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। উনি এখন আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য। তাই ওনার উচিত রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের যে রিপোর্ট কার্ড, সেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া।