দলীয় কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে আক্রান্ত সিপিএম কর্মীরা, কাঠগড়ায় তৃণমূল

146

আসানসোল: সিপিএমের স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সিপিএমের কর্মী ও নেতা। শুক্রবার আসানসোলের রানিগঞ্জ থানার রানিগঞ্জ ব্লকের রতিবাতি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরই সিপিএমের কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদ জানিয়ে রানিগঞ্জের নিমচা ফাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরে একইভাবে এদিন বিকালে রানিগঞ্জ থানা ঘেরাও করে সিপিএমের তরফে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এর নেতৃত্ব দেন রানিগঞ্জের সিপিএমের বিধায়ক রুনু দত্ত ও সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। যদিও শাসক দলের তরফে এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। সিপিএম কর্মীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের পরিষেবা সম্পর্কিত বেশ কিছু দাবি নিয়ে এদিন স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় রতিবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে। সেখান থেকে তাঁরা ফিরছিল।

সেই ফেরার সময় এই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সত্যম বাউরির নেতৃত্বে এই হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের আরও অভিযোগ। সিপিএমের ক্ষেত মজদুর সংগঠনের নেতা দেবিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দূষ্কৃতিদের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন। তার বাঁহাত ভেঙে যায়। মহিলা নেত্রী শিল্পী দাসকে হেনস্তা করা হয়। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি,  হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলেছে উন্নয়ন নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। কোথাও কোনও দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া যাবে না। সিপিএম নেতা ও কর্মীরা বলেন, বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন কর্মসূচি চলবে। এই ঘটনার প্রতিবাদ রানিগঞ্জ জুড়ে হবে। রানিগঞ্জ পঞ্চায়েত সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিনোদ নুনিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এই হামলা তৃণমূল কংগ্রেস  করেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে ওরা অপপ্রচার করছিল৷ তাই এলাকায় সাধারণ মানুষ ওদের বাধা দিয়েছে। তারাই প্রশ্ন তুলেছেন, বিগত ৩৪ বছর তাঁরা কোথায় ছিলেন। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগ নেই। রানিগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

- Advertisement -