নাড্ডার রোড শো’য়ের জমায়েতকে টেক্কা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সিপিএমের

302

বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সন্মুখ সমরে নেমে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। তবে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে পিছনের সারিতে চলে যাওয়া সিপিএম নেতারা অবশ্য আর পিছিয়ে থাকতে নারাজ। তাই ভোটের নিঘন্ট জারি হওয়ার আগেই ওয়ার্ম-আপ করে নিতে চাইছে লাল শিবির। পূর্ব বর্ধমান জেলা সিপিআইএম নেতৃত্ব রবিবার ঘোষনা করলেন তারা বর্ধমানে হয়েযাওয়া জে পি নাড্ডার রোড শোয়ের জমায়েতকে টপকে দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। এবারের ভোটে সিপিএমের শ্লোগান রাখা হয়েছে ‘ফেরাতে হাল -ধরো লাল’।

সিপিআইএমের ডাকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারী বর্ধমানে অনুষ্ঠিত হবে জনসভা। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে আসছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকার। তিনি দলের পলিটব্যুরো সদস্য। ‘ফেরাতে হাল; ধরো লাল’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখেই বর্ধমানে জনসমাবেশ করবে বামেরা।

- Advertisement -

রবিবার বর্ধমান জেলা সিপিআইএম কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন দলের জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক। তিনি বলেন, ‘৯ জানুয়ারি বর্ধমানে নাড্ডার র‍্যালিতে যে সমাবেশ হয়েছিল তাকেও ছাপিয়ে যাবে বামেদের সমাবেশ। পূর্ব বর্ধমানের প্রতি বুথ থেকে লোক আসবে মানিক সরকারের সভায়।’ অচিন্ত্যবাবু আরও দাবি করেন, নাড্ডার রোড শোয়ের পরের দিন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা অভিনেতা সোহমের যে রোড শো হয়েছিল তার থেকেও অনেক বেশী লোক নিয়ে তারা সমাবেশ করতে সক্ষম হবেন। লড়াইয়ের ময়দানে বামেরা আছে বলেই বামেদের কর্মসূচিগুলিতে মানুষের যোগদান বাড়ছে। বিজেপি বা তৃণমূল ছাড়াও তারা যে একটা বড় শক্তি সেটা আগামীদিনে তা প্রমাণ হতে চলেছে বলে এদিন মন্তব্য করেন সিপিআইএম নেতা অচিন্ত্য মল্লিক ।

সিপিআইএম নেতার এই বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের মত, একসময়ে অবিভক্ত বর্ধমানকে লাল দুর্গ বলা হত। সেই লালদুর্গে এখন ঘাসফুলের বিজয়কেতন উড়ছে। কিন্তু লকডাউনের আগে ও পরে নানাভাবে তারা শক্তি সঞ্চয় করেছেন বলে মনে করছেন বামেরা। বর্ধমান শহরে নাড্ডাজীর রোড শোয়ে ব্যাপক ভিড় হয়। তৃণমূলও পরের দিন বিরাট জমায়েত করে। এবারে দু’দলের জমায়েতের চেয়ে বেশি জমায়েত করার টার্গেট নিল সি পি আই এম। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নেতা অমল হালদার, তাপস সরকার, সৈয়দ হোসেন।