২ বছরেই ফাটল ধরল ২ কোটি টাকার বাঁধে

347

প্রতীকী ছবি

বিশ্বজিত্ সরকার, রায়গঞ্জ : পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে জল বাড়তে শুরু করায় রায়গঞ্জ ব্লকের কুলিক, মহানন্দা ও নাগর নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েছের কুলিক নদীর বাঁধের দুই জায়গায় বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ২০১৭ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই সেই বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় কাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বিরোধীদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ টাকা শাসকদলের নেতাদের পকেটে ঢুকেছে। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় পঞ্চায়েত। বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সেচদপ্তরের বাস্তুকার।

- Advertisement -

গত কয়েদিনের বৃষ্টিতে রায়গঞ্জ ব্লকের গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের রহমতপুর, গোয়ালদহ, জুগিয়া মোড়, নিমতলা, অনন্তপুর, দুপদুয়ার, নয়াটুলি, ভিটিয়ার ছাড়াও বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। জলবন্দি প্রায় কয়ে হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কুলিকের বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের মধ্যে। বছর দুয়ে আগে কুলিক নদীর এই অংশের বাঁধ ভেঙেই প্লাবিত হয়েছিল রায়গঞ্জ এবং ইটাহার ব্লকের একাধিক গ্রাম। ২০১৭ সালের বন্যার সময় কুলিক নদীর যে সমস্ত অংশ জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল, সেগুলি মেরামতির জন্য  প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিশাহার মৌজায় প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে একটি বাঁধ মেরামত করা হয়। আরেকটি বাঁধ সংস্কার করার জন্য ৩৩ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু এত টাকা বরাদ্দ সত্ত্বেও কীভাবে বাঁধে ফাটল ধরল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা সুলেমান সরকার বলেন, যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেই টাকা দিয়ে বোল্ডার ফেলে কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।

বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেন, ২০১৭ সালে বাঁধ সংস্কারের জন্য য়ে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার সিকিভাগও খরচ করেনি শাসকদলের নেতারা। নদী থেকে মাটি তুলেই বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। বোল্ডার দেওয়ার কোনো বালাই নেই। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট  এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রেজাউল হক। তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে বাঁধ সংস্কারের জন্য যে টাকা খরচ করা হয়েছিল, সেই টাকা থেকে কেউ কাটমানি খায়নি। এসবই বিরোধী দলের অপপ্রচার। সেচদপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার প্রশান্ত দাস এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।