হস্তান্তরের চারমাসেই শিশু আলয়ের দেওয়ালে ফাটল

বিপ্লব হালদার, তপন : হস্তান্তর হয়েছে মাত্র চার মাস আগে। এর মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে তপন ব্লকের দ্বীপখণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোধন গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তপন ব্লক প্রশাসন। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের কাটমানি নেওয়ার কারণেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তাই এত তাড়াতাড়ি শিশু আলয়ে ফাটল ধরেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তণমূল।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে নোধন গ্রামে শিশু আলয় গড়ে তোলা হয়। এই কাজের জন্য প্রায় ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৭৯ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এবছরে জানুয়ারি মাসে পাকাঘরটি তপন ব্লক সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। শিশু আলয়ে ভেতরে সাজিয়ে তোলা হয়। তপন ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকায় শিশু আলয়ে নিজস্ব পাকাঘর হওয়ায় হাঁফ ছেড়েছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু চার মাস যেতে না যেতেই শিশু আলয়টির ভবনের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফেটে গিয়েছে ঘরের মেঝে। এই ঘটনা নজরে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার বাসিন্দা অমল ভুঁইমালি বলেন, এখন লকডাউন চলছে। তাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। লকডাউন উঠে গেলে আবার  শিশুরা এখানে আসবে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতে দেওয়াল ফেটে গিয়েছে। এর ফলে আমরা আতঙ্কিত। কারণ যে কোনও মুহূর্তে দেওয়াল ভেঙে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে যাব।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কৃষ্ণ কুজুরের অভিযোগ, যে সময় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাকাঘর তৈরির কাজ হচ্ছিল, সেই সময় আমরা শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার দাবি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি। চার মাসের মধ্যে ঘরের বেশিরভাগ জায়গায় দেওয়াল ফেটে গিয়েছে। এখানে শিশুরা আসবে লেখাপড়া শিখতে। সেখানেও তৃণমূলের কাটমানির জন্য এই অবস্থা। বিষয়টি আমরা বিডিওকে জানাব। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা বলেন, বিজেপির একটা বুলি হয়ে গিয়েছে। এই কাজের সঙ্গে দলের কোনও বিষয় থাকতে পারে না। বিডিও অফিস থেকে কাজগুলি হয়ে থাকে। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। যদি কোনও এজেন্সি নিম্নমানের কাজ করে থাকে তাহলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডিওকেও বিষয়টি জানানো হবে।

তপন ব্লক সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক সায়ন মণ্ডল বলেন, গত জানুয়ারি মাসে নোধন গ্রামে শিশু আলয়টি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর জানতে পেরেছি দেওয়ালটি ফেটে গিয়েছে। সেই বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিডিও এবং জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তপনের বিডিও ছোগেল মোক্তান তামাং বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিল্ডিং ফেটে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।