ঝোপে ঢাকা শ্মশানে মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য

198

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জ ব্লকের টেনহরি শ্মশানে বাড়ছে মাদকাসক্তদের উপদ্রব। শুধু দিনের বেলা নয়, রাতের দিকেও মাদকাসক্ত বহু যুবক শ্মশানে ভিড় জমান। একেই শ্মশানের পরিকাঠামো বেহাল, তার ওপরে মাদকাসক্তদের তাণ্ডবে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় শ্মশানে দাহ করতে আসা শ্মশানযাত্রীদের। সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

রায়গঞ্জ ব্লকের ১০ নম্বর মাড়াইকুড়া অঞ্চলের টেনহরি গ্রামের শ্মশানটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। চারিদিকে জঙ্গল এবং ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ এই শ্মশানে দিনের বেলায় যেতেও সাধারণ মানুষ ভয় পান। শ্মশানে দাহ করতে যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও তথৈবচ। শ্মশানে নেই খড়ির ব্যবস্থা। দাহ করতে এলে পরিবারের লোকজনকেই খড়ি নিয়ে আসতে হয। একটি বাতিস্তম্ভ লাগানো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। নেই বিশ্রামাগার বা পানীয় জলের ব্যবস্থা। চুল্লির ওপরে শেড থাকলেও বৃষ্টি নামলেই ভিজতে হয় শ্মশানযাত্রীদের। বেহাল এই শ্মশানেই বেশকিছু দিন থেকে গড়ে উঠেছে নেশার ঠেক। সকাল থেকে অধিক রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকেরা শ্মশানে এসে ভিড় করে। মদ, গাঁজা সহ নানা ধরনের নেশায় মেতে থাকে মাদকাসক্তরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শ্মশানটির সংস্কারের পাশাপাশি এই এলাকা নেশামুক্ত করে তুলতে কোনো পদক্ষেপ করছে না পঞ্চায়েত সদস্যরা। ফলে দাহ করতে এসে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মাধবচন্দ্র দাস বলেন, টেনহরি শ্মশানটি সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েতকে জানিয়েছি। শ্মশানটির অবস্থা বেহাল হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। শ্মশানে যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। শ্মশানটির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রধানকে অনেকবার জানিয়েছি। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কমল দেবশর্মা বলেন, শ্মশানটির দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গ্রামবাসীদের সমস্যা হচ্ছে। তবে শ্মশানটির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। আমরা শীঘ্রই এজন্য একটি পরিকল্পনা জেলায় পাঠব। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে টেনহরি শ্মশান সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় নেশার ঠেক বসছে। বাইরে থেকে ছেলেরা এসে ঠেক বসাচ্ছে। শীঘ্রই যাতে ঠেক বন্ধ হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে জানাব।