অযত্নে পড়ে রয়েছে কালিয়াগঞ্জের বাঘন শ্মশানঘাট

কালিয়াগঞ্জ : কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঘন শ্মশানঘাট তৈরি হয়েছিল আটের দশকে। ফলে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে শ্মশানঘাটটি। এর আগে যদিও তৃণমূলের তরফে এই শ্মশানঘাটকে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি জিতলেও তারা শ্মশানের আর কোনও সংস্কার করেনি। তবে বিজেপি পরিচালিত ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নেন।

১৯৮৭ সালে এই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন মসিরুদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ থেকে হেমতাবাদ হয়ে এই শ্মশানঘাটের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে গামারী নদী। তৎকালীন সময়ে রেলের গুমটি ঘর থেকে লোহা নিয়ে তৈরি হয়েছিল শ্মশানের চুল্লি। এরজন্য রেল কোম্পানির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে রেলের লোহা চুরির কেসও হয়েছিল। কিন্তু হিন্দুদের দাহ কাজে যাতে সুবিধা হয়, সেই কথা মাথায় রেখেই তৎকালীন প্রধান এই চুরির অপবাদ নিতে এতটুকু মাথা নত করেননি। কংগ্রেস পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতের এহেন কাজে বিরোধী দল হিসাবে তৎকালীন বাম নেতারা বিরোধিতা করে মসিরুদ্দিনের কুশপুত্তলীকা দাহ করেছিলেন।

- Advertisement -

এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা প্রবোধ দেবশর্মা বলেন, এর আগে তণমূলের উদ্যোগে শ্মশানঘাটের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখন রক্ষণাবেক্ষণ খুবই কম হচ্ছে। এদিকে রাতে এক ব্যক্তিকে দাহ করতে এসে আলো না জ্বলায় বিপাকে পড়তে হয় শ্মশান যাত্রীদের। আবার জলের ক্ষেত্রে একমাত্র টিউবওয়েলই ভরসা। তাও আবার মাঝে মধ্যে খারাপ হয়ে যায়। ফলে শ্মশানে আসা মানুষজন সমস্যায় পড়ছেন। আমরা গ্রামবাসীরা উচ্চবাতি স্তম্ভ ও জলের জন্য স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এই বিষয়ে তৎকালীন প্রধানের পুত্রবধূ তথা বর্তমান উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য মমেনা খাতুন বলেন, সেই সময় আমার শ্বশুরমশাই বহু কষ্টে এই শ্মশানঘাট নির্মাণ করেছিলেন। তখন থেকে এলাকার হিন্দুরা মৃতদেহ এখানেই দাহকার্য সম্পন্ন করেন। এর ফলে এলাকার মানুষ উপকৃতও হচ্ছেন। তবে বিজেপি পরিচালিত ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মোটেও করা হচ্ছে না। শ্মশানের চারিদিকে আবর্জনায় ভর্তি রয়েছে। আলোর ব্যবস্থা ঠিক নেই, তাই রাতের বেলা দাহ কার‌্যে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

তাঁর অভিযোগ, একটি টিউবওয়ে থাকলেও বেশিরভাগ সময়ে তা অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পঞ্চায়েত নিজেরাও শ্মশানঘাটের উন্নতি করছে না, আবার পঞ্চায়েত সমিতি অথবা জেলা পরিষদের মাধ্যমে সহযোগিতাও চাইছে না। তবে আমি জেলা পরিষদের তরফে খুব শীঘ্রই মার্ক-২ টিউবওয়েল এবং সোলার লাইটের ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। আগামীতে যাতে পঞ্চায়েতের তরফে সৌন্দর্যায়নের জন্য বিভিন্ন ফুলগাছ লাগানো হয়, সেই বিষয়ে প্রধানে সঙ্গে কথা বলব।

এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ৭ নম্বর ভাণ্ডারে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্যি। তবে খুব তাড়াতাড়ি এই শ্মশানঘাট সৌন্দর্যায়ণ করা হবে। আলো, জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের প্রোজেক্ট তৈরির পথে। বাঘন এলাকার মানুষ নতুনভাবে এই শ্মশানঘাট দেখতে পাবেন।