দু’বছর পেরোলেও চালু হয়নি শ্মশানঘাট

480

শ্রীবাস মন্ডল, ফুলবাড়ি: তৈরি হওয়ার দুবছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের জিগাবাড়ি ঘাটে মুজনাই নদীর পাড়ে বৈতরণি প্রকল্পে তৈরি হওয়া শ্মশানঘাটটি এখনও ব্যবহারের জন্য চালু হয়নি। অভিযোগ, শ্মশানঘাটটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই প্রশাসনের তরফে এতদিনেও শ্মশানঘাটটি মানুষের ব্যবহারের জন্য চালু করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছে।

জানা গিয়েছে, জিগাবাড়ি ঘাটে দীর্ঘদিন থেকেই শ্মশানঘাট তৈরির দাবি ছিল। সেই দাবি মেনেই বছরদুয়েক আগে নদীর পশ্চিম পাড়ে সেতুর দক্ষিণ অংশে শ্মশানঘাট তৈরি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, শ্মশানঘাটটি তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফে মানেুষর ব্যবহারের জন্য সেটি উদ্বোধন করে খুলে দেওয়া হয়নি। যার ফলে আগের মতোই খোলা আকাশের নীচে নদীর পাড়ে শবদাহ করতে হচ্ছে। এমনকি শ্মশানঘাটের ভিত এতটাই নীচুভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, নদীতে জল বাড়লে ভিত ও চুল্লি তলিয়ে যায়। শ্মশানঘাট থেকে নদী পর্যন্ত তৈরি করা নালাটিও ভরাট হয় গিয়েছে বলে অভিযোগ। কবে শ্মশানঘাট মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে? সেই উত্তর কারও কাছে নেই। তবে তৈরি হওয়ার পরেও কেন ব্যবহারের জন্য শ্মশানঘাট খুলে দেওয়া হচ্ছে না এই বিষয়ে বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়ে প্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন বলে কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উমাকান্ত বমর্ন জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এদিকে, এই বিষয়টিকে ইশ্যু করে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নামতে চাইছেন বলে বিজেপির কোচবিহার জেলা পরিষদ ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বিশ্বরূপ রায় জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জিগাবাড়ি ঘাটে শ্মশানঘাটটি পরিকল্পনাহীনভাবে তৈরি করা হয়েছে। সেটি তৈরি হলেও মানুষের জন্য খুলে দিতে পারেনি প্রশাসন। এর জন্য এখনও এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্মশানঘাট তৈরি হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে আগের মতোই নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নীচে শবদাহ করতে হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য সুরথচন্দ্র বর্মন বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের কিছুনেতার খামখেয়ালিপনার কারণেই জিগাবাড়ি ঘাটে অপরিকল্পিতভাবে শ্মশানঘাটটি তৈরি করা হয়েছে। নদীতে জল বাড়লে শ্মশানঘাটের ভিত ও চুল্লি জলে ডুবে যাচ্ছে। নালাটিও মাটি জমে বুজে গিয়েছে।  এই বিষয়ে বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কমিটির আহ্বায়ক হরিপদ মিত্র বলেন, শ্মশানঘাটে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে একটি মোটর পাম্পের ব্যবস্থা করে শ্মশানঘাটটি চালুর ব্যবস্থা করা হবে। বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহাদেব বিশ্বাস বলেন, জিগাবাড়ি ঘাটের শ্মশানঘাটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের আগের প্রধানের আমলে তৈরি হয়েছে। শ্মশানঘাটটি চালু করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে শ্মশানঘাট চালু করার বিষয়টি দেখা হবে বলে প্রধান জানিয়েছেন।