জেলার ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা করবে সিএবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গের ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের দাবি মিটল। আসন্ন মরশুম থেকেই কলকাতায় সিএবি-র প্রথম ও দ্বিতীয় ডিভিশন লিগে খেলতে যাওয়া কলকাতার দূরবর্তী জেলার ক্রিকেটারদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করবে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা। সেই সঙ্গে সিনিয়ার আন্তঃজেলা ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য বিমার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিএবি-র জোড়া ঘোষণায় জেলার ক্রিকেটকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া বলেছেন, সিএবি চায় জেলা থেকে আরও ক্রিকেটার উঠে আসুক। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের গৌতম গোস্বামী বলেছেন, সিএবি-র অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি সিএবি-র কাছে কলকাতার দূরবর্তী জেলার ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছি। অবশেষে তা অনুমোদন পেল। কীভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে সেটা পরে ঠিক হবে। আপাতত দুটি জায়গার কথা ভাবা হয়েছে। বারাসত স্টেডিয়াম ও ইডেন গার্ডেন্সে গ্যালারির নীচে অস্থাযীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হতে পারে। জেলা ও মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার অনুমতি থাকলেই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের জন্য থাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ রেখেছি আমি। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, এতদিন কলকাতার মাঠে সিএবি-র লিগে ক্রিকেট খেললেই বিমার সুযোগ দেওয়া হত। সিএবি-র ১২১টি অনুমোদিত সংস্থার তালিকায় থেকেও বাকি জেলার ক্রিকেটাররা অবহেলিত থেকে যেত। সিএবি এবার থেকে সিনিয়ার আন্তঃজেলা ক্রিকেটে খেলা সব ক্রিকেটারকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিমার সুবিধা দেবে। জেলা ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই এটা খুশির খবর।

- Advertisement -

গত মরশুমে রনজি ট্রফিতে রেলওয়েজের হয়ে খেললেও কলকাতা ময়দানে সুপার ডিভিশন লিগে টাউন ক্লাবের জার্সিতে দেখা গিয়েছে অনন্ত সাহাকে। তিনিও কেরিয়ারের শুরুতে কলকাতায় স্থাযী ঠিকানা না পেয়ে নিয়মিত কলকাতা-তুফানগঞ্জ যাতায়াতে বাধ্য হয়েছিলেন। অনন্ত বলেছেন, ২০১২-১৩ সালে কলকাতার ময়দানে আমি প্রথম পা রেখেছিলাম অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলা দলের ট্রায়ালের জন্য। ট্রায়াল শেষে ৬০ জন সম্ভাব্যের তালিকায় রাখা হয় আমাকে। তাই বাংলা দলের শিবিরের সময় থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি আমাকে। কিন্তু বাকি সময়ে তুফানগঞ্জের বাড়ি থেকে কলকাতায় নিয়মিত যাওয়া-আসা করতে হত। কেরিয়ারের শুরুতে প্রতিটি ক্রিকেটারই আমার মতো সমস্যায় পড়েছে। এখন ছাদের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সিএবি নেওয়ায় তরুণ উঠতি ক্রিকেটাররা খোলা মনে খেলায় মনোযোগ দিতে পারবে। একইভাবে অনন্ত ক্রিকেটারদের বিমার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সিএবি-কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, ক্রিকেট খেলায় প্রাণের ঝুঁকি থেকেই যায়। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের থেকে অনেকেই ক্রিকেট খেলতে আসে। তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত আর্শীবাদ।

সিএবি-র সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন ঋদ্ধিমান সাহার কোচ জয়ন্ত ভৌমিকও। শনিবার শিক্ষক দিবসে অগ্রগামী সংঘে প্রয়াত গুরু পুলক বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জানানোর ফাঁকে তিনি বলেছেন, থাকার জায়গার অভাবে জেলার অনেক ক্রিকেটারই কলকাতায় খেলতে যেতে চাইত না। এখন সিএবি খোদ দায়িত্ব নেওয়ায় সেই সমস্যার মুখে আর উঠতি ক্রিকেটারদের পড়তে হবে না। জেলার ক্রিকেটারদের বিমার আওতায় আনা একইরকম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটারদের বলব এর পরিপূর্ণ সুবিধা নিতে। অভিভাবকদের মানসিকতা থেকে সিএবি-র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিলিগুড়ি ক্রিকেট লাভার্স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মনোজ ভার্মাও। বলেছেন, দারুণ খবর। আমার ছেলে কলকাতায় খেলার সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওর থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব নয়। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে তা সমস্যার। এখন সিএবি থাকার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত মনে সন্তানদের কলকাতায় খেলার অনুমতি দিতে পারবেন।