সুশীলের বিরুদ্ধে মোকার ধারা দিতে পারে পুলিশ

নয়াদিল্লি : সুশীল কুমারের বিরুদ্ধে মোকা (মহারাষ্ট্র কনট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট)-র ধারা যুক্ত করতে পারে দিল্লি পুলিশ। যোগ করা হতে পারে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১ ধারাও। অন্যদিকে, সাগর ধনকর হত্যার তদন্তে সোমবার সুশীলকে নিয়ে হরিদ্বারে গিয়েছেন দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারীরা।

শনিবার আদালতে সুশীলকে পেশ করে পুলিশ জানিয়েছিল, সুশীলের মোবাইল ও ঘটনার রাতে পরা পোশাক সহ একাধিক প্রমাণ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, ৪ মে রাতে সাগরের মৃত্যুর পর হরিদ্বারে লুকিয়ে ছিলেন এই তারকা কুস্তিগির। সেখানে তাঁর মোবাইল ও পোশাক রয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। তাই এদিন ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাঁকে নিয়ে হরিদ্বারে যায়। সেখানে পুলিশ তাঁকে নিয়ে একাধিক জায়গায় হানা দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর সুশীল যেখানে যেখানে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, সেই সব জায়গায় তাঁকে নিয়ে তদন্তে যাওয়া হবে।

- Advertisement -

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরকে মারধরের ভিডিও দেখিয়ে অন্যদের চাপে রাখতে চেয়েছিলেন সুশীল। বাস্তবে সেই ভিডিও ছড়িয়ে যাওয়ায় পাল্টা চাপে পড়ে যান জোড়া অলিম্পিক পদকের মালিক। এজন্য নিজের ফোন থেকে ভিডিও সহ যাবতীয় প্রমাণ মুছে ফেলে ফোনটি ফেলে দেন। এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসির ২০১ ধারা যোগ করা হতে পারে। আবার কালা জাঠেদি, নীরজ বাভানার মতো দাগী অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় মোকার ধারা যোগ হতে পারে। এই আইনে মামলা হলে অভিযুক্ত জামিন পেতে সমস্যায় পড়ে। আবার তদন্তকারীরা চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য ১৮০ দিন (সাধারণের থেকে দ্বিগুণ) সময় পান। এই আইনে দোষী প্রমানিত হলে সুশীলের আজীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্তে কোনও সহযোগিতা করছেন না সুশীল। জেরায় তিনি বারবার দাবি করছেন, সাগরকে প্রাণে মারার কোনও পরিকল্পনা ছিল না তাঁদের। বরং তাঁকে মেরে বাকিদের শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি ফ্ল্যাট নিয়ে বিবাদের তত্ত্বও মানতে নারাজ তিনি। তাঁর দাবি, ছত্রশাল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করা অন্য কুস্তিগিরদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছিলেন সাগর। তাই স্টেডিয়ামে ডেকে মারধর করেন তিনি।