পুলিশ ব্যস্ত লকডাউন অমান্যকারীদের ধরতে, সুযোগ নিয়ে বাড়ছে চুরির প্রবণতা

334

ফাঁসিদেওয়া, ২৭ এপ্রিলঃ লকডাউনে ব্যস্ত পুলিশ প্রশাসন। কোথাও জমায়েত কিংবা কোথাও করোনা সতর্কতা উলঙ্ঘণের খবর পেতেই ছুঁটছে পুলিশ। এই সুযোগে অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্তরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। কাজ হারানো মানুষদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দাঁড়ালেও, অপরাধের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকায় লকডাউন শুরুর পর থেকে একের এক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। অপরাধীরা এখনও আইনের কাছে অধরাই রয়ে গিয়েছে৷ ঘটনার ভিত্তিতে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রবিবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের পেটকিতে যোগেশ্বর রায় নামে এক গৃহস্থের বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘরে নগদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা থাকলেও, ওই গৃহস্থের তৎপরতায় দুষ্কৃতীর দল চুরি করতে পারেনি৷ অন্যদিকে, বিষ্ণু সরকার নামে বিধাননগর লাহুগছের বাসিন্দার পুকুর থেকে বেশ কিছুদিন যাবৎ মাছ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। শনিবার রাতেও একই ঘটনা ঘটতে ওই মৎস্যজীবী বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রের খবর একই রাতে চটহাটের চোঁচপাড়া এলাকায় একটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই এলাকাবাসী পুলিশি টহলদারীর দাবি করেছেন৷

- Advertisement -

লকডাউন শুরুর পর ৩০ মার্চ সোমবার রাতে ফাঁসিদেওয়ার খলিলজোত এলাকার একটি কালী মন্দিরে মাছ ধরার ছিপ দিয়ে বিগ্রহের অলংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে মন্দির থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার সোনার অলংকার চুরি গিয়েছে। এরপর ৪ এপ্রিল শনিবার ভোরে চটহাটের পেটকিতে একইরাতে ৪টি বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩টি মোবাইল এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়েছিল। ফাঁসিদেওয়া সংলগ্ন ঘোষপাড়ার দুর্বল ঘোষের চালের গুদামে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রায় ৫ হাজার নগদ টাকা চুরি হয়েছিল ১১এপ্রিল শনিবার রাতে। একইরাতে রাঙ্গাপানীর একটি বেসরকারী ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে প্রায় ৫ হাজার নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একই কায়দায় দুষ্কৃতীর দল সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক চুরি করি করেছিল এবং আনন্দ বসাকের বাড়িতে ভাড়ায় থাকা ব্যাংকের নীচে সিঁড়ির ঘর থেকে ১টি বাইক চুরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার ফাঁসিদেওয়ার হেরাগছ এলাকার বাসিন্দা দীপক সিংহের বাড়ি থেকে ৪টি গোরু এবং ২টি বাছুর চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু ফাঁসিদেওয়া নয়, পরদিন শনিবার বিধাননগরের মিলনপল্লীতে বুলু মন্ডলের বাড়ি থেকে ৩টি গোরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে গোটা ফাঁসিদেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে অপরাধ নিয়ে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। লকডাউনে রোজগারে টান পড়তেই একশ্রেণির মানুষ এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে বলে স্থানীয়রা অনুমান করছেন। ইতিমধ্যেই কড়া পুলিশি প্রহরার দাবি জানিয়েছেন।

অনিমেষ সরকার নামে বিধাননগরের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, লকডাউনের পর থেকেই বেড়েছে অপরাধ। এক্ষেত্রে তিনি পুলিশের কড়া হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। অপরদিকে, বিজেপির ফাঁসিদেওয়া মন্ডল সভাপতি অনিল ঘোষ জানিয়েছেন, কাজের অভাবেই কিছু মানুষ এই সকল অসৎ উপায় অবলম্বন করছে৷ পেটের টানে এমন ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে৷ খাদ্য সামগ্রী সঠিক উপায়ে গরীব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই সমস্যা অনেকটা মিটবে। ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত জানিয়েছেন, চুরির ঘটনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নয়। সকল ঘটনা খতিয়ে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।