প্রিয়া সিংহ, আলিপুরদুয়ার : ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল। কিন্তু ভিতরে ঢুঁ মারলেই প্রকট হবে দৈন্যদশা। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের বহিরঙ্গের সঙ্গে অন্দরের আসমান-জমিন ফারাক। বিভিন্ন বিভাগ থাকলেও সেখানে চিকিৎসক নেই। কোনো বিভাগে চিকিৎসক হাতেগোনা। যেমন, হাসপাতালে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে নেই কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ চলছে মাত্র একজন চিকিৎসকের উপর ভর করে। স্বভাবতই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা ওইসব বিভাগের রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। জেলা হাসপাতাল হওয়ায় আলিপুরদুয়ার শহর ছাড়াও আশপাশের চা বাগান এলাকার বহু মানুষ নির্ভর করে থাকেন এই হাসপাতালের ওপর। কিন্তু চিকিৎসকের খামতিতে সঠিক পরিসেবা পাচ্ছেন না তাঁরা। হাসপাতাল সুপার অবশ্য দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

আলিপুরদুয়ার জেলার বেশিরভাগ এলাকা জুড়েই রয়েছে চা বাগান। আর এই বাগান শ্রমিকরাই সবথেকে বেশি চর্মরোগে আক্রান্ত হন। শ্রমিকরা অনেকেই খালি পায়ে চা পাতা তুলতে যান। চা বাগানে ব্যবহৃত কীটনাশক দিনের পর পর দিন তাঁদের শরীরের সংস্পর্শে আসে। ফলে দেখা দেয় চামড়ার বিভিন্ন সমস্যা। মহিলা থেকে পুরুষ- সব শ্রমিকই প্রায় প্রত্যেক বছর চর্মরোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া কৃষকরাও বিভিন্ন কীটনাশকের প্রভাবে চর্মরোগে আক্রান্ত হন। বাগান মজুর অথবা সাধারণ কৃষকদের প্রাইভেটে চিকিৎসা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। সকলেরই ভরসা আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। কিন্তু জেলা হাসপাতালে এসেও চিকিৎসক না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকে বাধ্য হয়ে ৩০০-৪০০ টাকা ভিজিট দিয়ে প্রাইভেটে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাচ্ছেন। একবছর ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগীদের মধ্যে।

- Advertisement -

ভোলারডাবরি থেকে আসা এক রোগীর আত্মীয় সঞ্জয় বর্মন বলেন, হাসপাতালে বহুদিন ধরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। রোগীদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। মথুরা থেকে আসা রোগী নান্টু সাহা বলেন, হাসপাতালে চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য এলেও ডাক্তার না থাকায় জেনারেল ফিজিশিয়ানকেই দেখাতে হয়। ভাটিবাড়ি থেকে আসা আরেক রোগী নিখিল বর্মন বলেন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাইরে বেশি টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। চর্মরোগ বিভাগের মতোই প্রায় একই হাল চক্ষু বিভাগের। এখানে অবশ্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু একজন চিকিৎসকের পক্ষে দৈনিক কয়েকশো রোগীকে পরিসেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় রোগীদের। এইসব খামতি নিয়ে হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনে জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।