সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে পাইপলাইন, স্ট্যান্ডপোস্ট ভেঙে যাওয়ায় একবছর ধরে পিএইচই-র পানীয় জল পরিসেবা বন্ধ রয়েছে ফালাকাটা শহরের দুলাল দোকান এলাকায়। শহরাঞ্চলের দুই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় চার হাজার মানুষ জল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই জারের জল কিনে খাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার দেড়-দুই কিমি দূরে বাবুপাড়ায় পিএইচই-র রিজার্ভার সংলগ্ন এলাকা থেকে জল নিয়ে আসছেন। তবে এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুল, এসএসকে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেও নলকূপের জল দিয়ে মিড-ডে মিল রান্না হচ্ছে। ওই জল খাচ্ছে পড়ুযারাও। শহরের এক প্রান্তে থেকেও নলবাহিত পরিস্রুত জল পরিসেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসন এবং পিএইচই-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চাযেস্তরের জনপ্রতিনিধিরাও। পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, বিষয়টি সেভাবে জানি না। খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখছি।

লোকসভা ভোটের আগে ফালাকাটা শহরে পিএইচই-র তিনটি পানীয় জলপ্রকল্পের শিলান্যাস হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। বাবুপাড়ায় থাকা বহু পুরোনো একটি রিজার্ভারের মাধ্যমে শহরাঞ্চলের একাংশে পানীয় জল পরিসেবা চালু রয়েছে। এই রিজার্ভারের মাধ্যমেই মিল রোড হয়ে দুলাল দোকান এলাকায় স্ট্যান্ডপোস্টের মাধ্যমে জল পরিসেবা চালু ছিল। কিন্তু ফালাকাটা-কোচবিহার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জেরে দুলাল দোকান এলাকায় জলের কিছু স্ট্যান্ডপোস্ট ভেঙে যায়। আবার কিছু স্ট্যান্ডপোস্ট এখনও রয়েছে। কিন্তু সেইসব কলে একবছর ধরে জল পৌঁছাচ্ছে না। ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩/২৩৭ ও ১৩/২৩৮ নম্বর বুথ নিয়ে দুলাল দোকান এলাকা। দীর্ঘদিন জল না পাওয়ায় এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর আলি বলেন, এজন্য প্রতিদিন বাবুপাড়ার রিজার্ভারের কাছ থেকে ড্রাম ও বোতলে করে জল নিয়ে আসতে হয়। একই বক্তব্য জমিরুদ্দিন সরকারের। আবার সুভাষ ঘোষ, সফিকুল ইসলামরা জানান, তাঁরা বাধ্য হয়ে জারের জল কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু টাকা দিয়ে জল কিনে খেতে পারেন না অনেকেই। তাই অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়ির নলকূপের জলই খান। গৃহবধূ বেগমা বিবি ও ফুলসুন বিবির দাবি, এখানকার টিউবওয়েলের জলে আয়রন রয়েছে। পিএইচই-র পরিসেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে সেই জলই খেতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অনেকে পেটের রোগে ভুগছেন।

মাসের পর মাস এই এলাকায় জল বন্ধ থাকায় ব্লক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় ১৩/২৩৭ বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য গোফুর আহমেদ বলেন, এলাকার মানুষ জল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। বিষয়টি অনেক আগেই পঞ্চায়েত সমিতিকে জানিয়েছি। এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় চার হাজার বাসিন্দা সহ পাশের অরবিন্দপাড়ার তিনশো মানুষও জল পাচ্ছেন না। অরবিন্দপাড়ার লোকজনও দুলাল দোকান এলাকা থেকে নিয়মিত জল নিয়ে যেতেন। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, দুলাল দোকান এলাকা আপাতত নতুন জলপ্রকল্পের সঙ্গে ধরা নেই। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি। নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই ওই এলাকা যুক্ত করে নেওয়া হবে। পিএইচই-র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের মাধ্যমে পিএইচই-র অফিসে জানালে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।