চাহিদার সমুদ্রে জোগান বিন্দুমাত্র, উত্তরে অধরাই রইল ইলিশ

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : পুজোর উপহার ইলিশ। পুজোর মুখে রুপালি শস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরাজ হতেই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল উত্তরবঙ্গ। তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ হয় বাংলাদেশের ইলিশ বনগাঁ সীমান্ত অতিক্রম করায়। কিন্তু পঞ্চমীর দিন কয়েকঝুড়ি ইলিশ উত্তরবঙ্গে এলেও অগ্নিমূল্যের জন্য তাতে হাত দিতে সাহস দেখাতে পারেনি বাঙালি। কবে উত্তরের বাজারে হাতের নাগালে ইলিশ আসবে তার সদুত্তর দিতে পারেননি কোনো মৎস্য ব্যবসায়ীও।

বাঙালির পুজোর মেনুতে ইলিশের নানা পদকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। এবারও পুজোর দিনে পাতে ইলিশের নানা পদের একটা কাল্পনিক ছবি এঁকে রেখেছিল উৎসবমুখর বাঙালি। কিন্তু উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়লেও ইলিশ অধরাই থাকছে। এর মূলে রয়েছে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের জোগানের স্বল্পতা এবং তার ফলে অর্থনীতির নিয়মে মূল্যবৃদ্ধি। তবে মূল্যবৃদ্ধি যে এমনটা হতে পারে তা কল্পনা করতে পারেননি ক্রেতা থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী কেউই।

- Advertisement -

বাংলাদেশের ইলিশ নিয়ে উত্তরের বাঙালি যখন তোমার দেখা নাই রে গান আওড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ঠিক তখন মহাপঞ্চমীর দিন শিলিগুড়ির রেগুলেটেড মার্কেটে ঢুকেছে দুটন বাংলাদেশের ইলিশ। এর মধ্যে এদিন এক টন ইলিশ বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাকি এক টন রেখে দেওয়া হয়েছে শুক্র এবং শনিবারের জন্য। তবে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এদিন এক টন ইলিশ বিক্রি করতে ঘাম ছুটে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের। কেননা ৮০০ থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের পাইকারি দর ছিল ১,২০০ টাকা থেকে ১,৭০০ টাকা। খোলাবাজারে তা বিক্রি করতে গেলে দাম হাঁকাতে হবে ১,৫০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা। ফলে অধিকাংশ খুচরো ব্যবসায়ী বাংলাদেশের ইলিশ বিক্রির ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে চাননি।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, যত দামই হোক না কেন ১০ শতাংশ মানুষ ইলিশ কিনবেনই। কষ্ট হলেও ইচ্ছেপূরণের জন্য আরও ১০ শতাংশ মানুষ ইলিশ বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বাকি ৮০ শতাংশ মানুষ সাধ থাকলেও সাধ্যপূরণ করতে পারেন না। তবে বাংলাদেশের ইলিশের তকমা লাগিয়ে শহরের বিভিন্ন বাজারে ওডিশার ইলিশ চড়া দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রসঙ্গত, পাঁচবছর পর বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েযে। হাসিনার কথায় পুজোর উপহার।

যদিও এই উপহার ঘরে তোলার সাহস দেখাতে পারছেন না তেমন কেউই। শিলিগুড়ি হোলসেল ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সময় প্রত্যেক দিন তিন থেকে চার টন ইলিশের চাহিদা থাকে। কিন্তু গত কয়েকবছরের নিরিখে এবার ১০ শতাংশ ইলিশ আমদানি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ, দিঘা, নামখানা থেকে। উৎপাদন কম এবং তার জেরে মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার জন্যই বাঙালির হাতের নাগালের বাইরে ইলিশ চলে গিয়েছে, বলছেন ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বাপি চৌধুরি।