রোনাল্ডোর রিয়ালে প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা

তুরিন : জুভেন্তাসে খুশি নন, ফের রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে চাইছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পোর্তোর কাছে হেরে জুভেন্তাসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ে ঘটনা এখনও এক সপ্তাহ পেরোয়নি। তার মধ্যেই এমন জল্পনায় সরগরম ইউরোপের ফুটবল। জানা গিয়েছে, সিআর সেভেনের এজেন্ট জর্জ মেন্ডিস নাকি এরই মধ্যে রিয়ালের বোর্ডের সঙ্গে একদফা আলোচনাও সেরে ফেলেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন রোনাল্ডো। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের চারবার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে দামী ট্রফি এনে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা স্ট্রাইকার। অন্যদিকে, ১৯৯৫-৯৬ সালের পর আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি জুভেন্তাস। তাই এই দামি ট্রফির স্বপ্নে রোনাল্ডোকে দলে নিতে উঠেপড়ে লেগেছিল তুরিনের ক্লাব। অবশেষে ২০১৮ সালে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। বুঁফোদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে স্পেন থেকে ইতালিতে পা রাখেন রোনাল্ডো। কিন্তু কোথায় কী, তিন বছর হয়ে গেল সিআর সেভেনের তুরিনে আসা। ট্রফি তো দূরের কথা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের সীমানা পর্যন্ত পেরোতে পারেনি রোনাল্ডো ব্রিগেড। অথচ ২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির জুভেন্তাস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলেছে। তাই এখন তুরিনের সমর্থকরা প্রশ্ন করছেন, বড় অর্থের বিনিময়ে রোনাল্ডোকে ক্লাবে এনে কী লাভ হল। তবে রোনাল্ডো জমানায় অবশ্য পরপর দুমরশুম সিরি-আ জিতেছে জুভেন্তাস। কিন্তু সেটা রোনাল্ডো না থাকাতেও জিততেন বুঁফোরা। এই মরশুমে লিগটাও হয়তো জিততে পারবেন না রোনাল্ডোরা। তাই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, জুভেন্তাস আর রোনাল্ডোকে রাখতে চাইছে না। ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি জিওভান্নি কোবলি তো প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, এত অর্থ ব্যয় করে রোনাল্ডোকে কেনা জুভেন্তাসের উচিত হয়নি। তিনি পদে থাকলে এমন অবস্থায় পর্তুগিজ তারকাকে বিক্রি করে দিতেন। তাই জুভেন্তাসে যে রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত তা অন্তত পরিষ্কার।

- Advertisement -

এদিকে রোনাল্ডো রিয়াল ছাড়ার পর তারাও আর সাফল্যের মুখ দেখেনি। তবু অনেকের প্রশ্ন, রিয়াল আদৌ কি রোনাল্ডোকে ফেরাবে। এই নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রিয়াল তরুণদের নিয়ে নতুন দল গড়তে চাইছে। আর্লিং ব্রাইট হাল্যান্ড, কিলিয়ান এমবাপেদের দলে টানতে ইতিমধ্যে ঘুঁটিও সাজাচ্ছেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তাই তাঁরা এত অর্থ ব্যয় করে ৩৬ বছরের রোনাল্ডোকে কেন দলে নিতে যাবেন।

চলতি মরশুম শেষে এমবাপে অবশ্য পিএসজি ছাড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে পরের মরশুমে নেইমারের সঙ্গে প্যারিসে জুটি বাঁধতে পারেন রোনাল্ডো। এখন দেখা যাক রোনোল্ডোর ঠিকানা বদল হয় কি না। এদিকে রোনাল্ডোর প্রাক্তন সতীর্থ ও রিয়াল ডিফেন্সের স্তম্ভ সের্জিও র‌্যামোস এই নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তাঁর মন্তব্য, রোনাল্ডোর রিয়াল ছাড়া উচিত হয়নি। এতে ওঁর ও রিয়াল দুপক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে। আমি দায়িত্বে থাকলে ওকে যেতে দিতাম না।