মডরিচের ট্রিভেলায় নকআউটে ক্রোয়েশিয়া

গ্লাসগো : প্রবাদে বলে, বয়স বাড়লে মদ আরও ভালো হয়।

লুকা মডরিচের ক্ষেত্রেও এই প্রবাদ যথার্থ। মঙ্গলবার রাতে গ্লাসগোয় স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফের প্রমাণ করলেন, বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। চোখ ধাঁধানো ট্রিভেলা শটে গোল, সতীর্থকে গোলের বল সাজিয়ে দেওয়া- ক্রোয়েশিয়াকে প্রি-কোয়র্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে যা যা করা দরকার, সব করলেন। তিন বছর আগের রাশিয়ার স্মৃতি এদিন ফিরল স্কটল্যান্ডে।

- Advertisement -

প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হার, এরপর চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ড্র। ইউরোয় টিকে থাকতে চাইলে এদিন জিততেই হত ক্রোয়েশিয়াকে। সেই কাজে নেতৃত্ব দিলেন মডরিচ। ৬২ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মারা তাঁর ট্রিভেলা আটকানোর ক্ষমতা ছিল না স্কট গোলরক্ষক ডেভিড মার্শালের। এদিন নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। ইউরোয় ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে তরুণতম এবং বয়স্কতম গোলদাতা এখন মডরিচই। অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে চেকদের হারে বাড়তি সুবিধা মিলল। পয়েন্ট সমান হলেও বেশি গোল দেওয়ার সুবাদে চেক প্রজাতন্ত্রকে পেছনে ফেলে গ্রুপ রানার্স হল ক্রোয়েশিয়া।

তবে সব ছাপিয়ে আলোচনার ক্রোট অধিনায়ক মডরিচ। আর তিন মাস পরে ৩৬তম জন্মদিন। কিন্তু এখনও গোটা মাঠ দাপিয়ে খেলেন। সারা ম্যাচে ৯৮টি পাস বাড়ালেন সতীর্থদের। গোলের জন্য আসিস্ট করলেন পেরিসিচকে। ম্যাচ শেষে বললেন, আজকে ভালো খেলেছি। পরের পর্বে যাওয়ার জন্য খুশি। প্রথম দুম্যাচের পারফরমেন্স নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। কারণ নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। তবে আমরা যখন এভাবে খেলি, সেটা প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যার। ম্যাচটা নিয়ে কতটা চাপে ছিলেন, তা বোঝা গেল শেষ বাঁশির পর। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পরলেন। কিছুক্ষণ দুটো হাত মুঠো করে উপরে তুলে রাখার পর ঘাসে মাথা ছোঁয়ালেন। চোখের জল ঢাকতেই হয়তো ঘাসে মুখ লুকোলেন। কিন্তু কেপে ওঠা শরীর বুঝিয়ে দিল সবই।

অধিনায়ককে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রোট কোচ জ্লাটকো দালিচ। তাঁর কথায়, জানি না কীভাবে লুকা এখনও এভাবে খেলে। মাঝেমাঝেই মনে হয়, এবার থামবে। আর তখনই নতুন ভাবে শুরু করে। ও আমাদের দলটাকে একসুঁতোয় বেঁধে রেখেছে। ওর মতো ছাত্র পেয়ে আমি গর্বিত। মডরিচে মুগ্ধ প্রতিপক্ষও। স্কট ডিফেন্ডার কিরেন টিয়ের্নির কথায়, ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত খেলেছে আজ। বিশেষত লুকা। ওর অবিশ্বাস্য পারফরমেন্সের কাছে হারলাম। মডরিচের কাছেই হারতে হয়েছে বলে ঘুরিয়ে স্বীকার করলেন স্কটিশ বস স্টিভ ক্লার্ক।

গ্লাসগোয় খেলা হলেও উয়েফার বিচারে ম্যাচে হোম টিম ছিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচ শেষে মডরিচের জন্য যে সম্মান গ্যালারিতে দেখা গেল, তাতে অবশ্য সেই তফাত বোঝায় উপায় ছিল না।