সীমান্তের ওপারে কৃষিকাজে যাওয়ার গেট বন্ধ, জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল

318

তুফানগঞ্জ: লকডাউনের জেরে তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের সীমান্ত এলাকার কৃষকদের জমিতে ফলানো ফসল নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, বিষয়টি তুফানগঞ্জ-১ ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বালাভূত গ্রাম পঞ্চায়েতের চর বালাভুত, মধ্যচর ও ঝাউকুঠি এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের জেরে সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি সিল করেছে বিএসএফ। বন্ধ হয়ে গিয়েছে সীমান্তের ওপারে কৃষিকাজে যাওয়ার গেটও। যার জেরেই সীমান্তের ওপার থেকে কাটা ফসল আনতে পারছেন না সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হতে বসেছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও নষ্ট করছে ফসল। বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ফসল নষ্ট ও চুরি করে নিয়ে যাওয়া অভিযোগ নতুন নয়। বার বার সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

- Advertisement -

তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের সীমান্ত এলাকায় কয়েকশ একর জমি কাঁটাতারের ওপারে রয়েছে। কয়েক মাস আগেই সীমান্তের ওপারে থাকা জমিতে পরিশ্রম করে ভুট্টা, লংকা সহ বিভিন্ন সবজি ফলিয়েছেন সীমান্ত এলাকার কৃষকরা। বর্তমানে ফসল আনতে না পেরে সমস্ত পরিশ্রম মাটি হচ্ছে। জমিতে পরে থাকা ভুট্টা গেজিয়ে যাচ্ছে। চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বহুদিন থেকেই সীমান্তের ওপারে যাওয়ার গেট বন্ধ। কিছুদিন আগে তুফানগঞ্জ-১ ব্লক কৃষি আধিকারিক ঋতম সাহা সীমান্তের ওপারের জমি পরিদর্শন যান। কৃষকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তাঁকে কাছে পেয়ে আশার আলো দেখেছিলেন কৃষকরা। তবে গেট বন্ধই রয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আমিরউদ্দিন ব্যাপারী, মফিকুল ইসলাম জানান, বিএসএফ সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে। কেউ বাইরে বা ভেতরে আসতে পারছেন না। এই অবস্থায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ভুট্টা। স্বাভাবিকভাবেই কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভুট্টা গেঁজিয়ে গেছে। যে কারণে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মহকুমা প্রশাসনকে বারবার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান তাঁরা।

মহকুমা প্রশাসন সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় তারা এই কঠোর নিয়ম লাগু করেছে। সাময়িক সমস্যা হলেও উপকৃত হবেন সীমান্তবাসী। তুফানগঞ্জ-১ ব্লক কৃষি আধিকারিক ঋতম সাহা বলেন, মহকুমাশাসকের নির্দেশে আমি বিএসএফ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। রিপোর্ট অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা ওপর মহল থেকে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।