প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ঝুমুর সেতু পারাপার

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : নদীর তীব্র জলোচ্ছ্বাসে দুমাস আগে ঝুমুর সেতু বসে গিয়েছে। তারপর থেকে ওই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সমস্যার জেরে দুটি এলাকার একমাত্র ভরসা ধূমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছোতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ। তবে বৃষ্টি হলেই নদীর জল উপচে সেতুর ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। সেসময় হেঁটে চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এই সমস্যার জেরে ঘোর বিপাকে নাগরাকাটার আংরাভাসা-১ এবং আংরাভাসা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা। নাগরাকাটার বিডিও স্মৃতা সুব্বা বলেন, জেলা পরিষদকে বিষয়টি জানানো আছে। ইঞ্জিনিয়াররা এসে সেতুটি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন দাস বলেন, সেতু সংস্কারের প্রকল্প তৈরি করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আংরাভাসা-২ পঞ্চায়েতের ৭টি মৌজার মধ্যে ৬টি মৌজার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ অন্য কাজে ওপারের ধূমপাড়া, নাথুয়া কিংবা এপারের বানারহাটে যেতে হলে ঝুমুর সেতু পেরোতে হয়। এছাড়া আংরাভাসা-২ পঞ্চায়েতের উত্তর ধুন্দাসিমলা, উত্তর আংরাভাসা, দক্ষিণ আংরাভাসার মতো ৩টি মৌজার বাসিন্দার নানা জায়গায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ওই সেতু পারাপার আবশ্যিক। গত জুলাই মাসে প্রবল বৃষ্টিতে সেতুটি বসে যায়। বর্তমানে সেটির হাল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তরফে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে যান চলাচল বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। ধূমপাড়ার হাসপাতাল কিংবা নাথুয়ার হাট বাজারে যেতে গেলে উত্তর নুনখাওয়াডাঙ্গা-পূর্ব খয়েরকাটা হয়ে একটি ঘুরপথ থাকলেও এর জন্য অতিরিক্ত ৬-৭ কিলোমিটার পেরোতে হয়।

- Advertisement -

তৃণমূল কংগ্রেসের আংরাভাসা-২ অঞ্চল কমিটির নেতা রাজু ছেত্রী বলেন, ঝুমুর নদীর সেতুটি বসে যাওয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। জরুরিকালীন ভিত্তিতে অ্যাম্বুল্যান্সও ওই পথে ধূমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারছে না। ঘুরপথে যেতে সময় এবং খরচ উভয়ই বেশি লাগছে। গর্ভবতীদের সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনকে সেতুর সমস্যাটি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে। বিজেপির নাগরাকাটা-২ মণ্ডল কমিটির সভাপতি ও আংরাভাসা এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন সরকার বলেন, দুই মাস হয়ে গেল। অনেকেই এসে সেতুটি দেখে গেলেও কেন সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হচ্ছে না, আমাদের বোধগম্য নয়। সেতু সংস্কারে বিলম্ব হওয়ায় বাসিন্দাদেরই ভুগতে হচ্ছে।