জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরা গদাধর নদী পারাপার

তুফানগঞ্জ : কয়েকটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে তার উপর একটি সুপারি গাছ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই সুপারি গাছের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মরা গদাধর নদী পারাপার চলছে। ওখানে সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু দাবি পূরণ হচ্ছে না। এতে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। স্থানীয় মানুষ শীঘ্রই ওখানে সেতু চান।

তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম অন্দরান ফুলবাড়ির ৯/১৮৫ নম্বর বুথের খোরারপাড় ও যমেরডাঙ্গা এলাকার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হত গদাধর নদী। প্রায় চার দশক আগে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়। নদীটি অন্যদিক দিয়ে বইতে থাকে। পুরোনো নদীটি এখন ছড়ায় পরিণত হয়েছে। নাম হয়েছে মরা গদাধর নদী। বছরের ছয় মাস বৃষ্টির জলে পুষ্ট হয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে মরা নদীটি। শুখা মরশুমের ছয় মাস ছড়ায় জল থাকে না। তখন সাঁকোর দরকারও হয় না। নদীর মধ্য দিয়ে চলে চলাচল। তুফানগঞ্জ শহর ঘেঁষা ছড়ার ওপারের খোয়ারপাড়ের ২০০টি পরিবারের লোকজন নিত্যপ্রয়োজনে প্রতিদিন তুফানগঞ্জে আসেন। কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত শস্য বিক্রির জন্য তুফানগঞ্জ বাজারের উপর নির্ভরশীল। তাঁরা তাঁদের শস্য বস্তাবন্দি করে মাথায় করে একটি বাঁশের বা সুপারি গাছের সাঁকোর উপর দিয়ে ছড়া পার হন।

- Advertisement -

এলাকার প্রায় সব ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনার জন্য তুফানগঞ্জ শহরে আসতে হয়। বর্ষাকালে এক হাতে সাইকেল, পিঠে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে একটি বাঁশ বা সুপারি গাছের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের পার ছড়া হতে হয়। অনেকেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এলাকার অধিকাংশ শ্রমিক প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই শহরে আসেন কাজের সন্ধানে। অফিস, আদালত, হাসপাতাল ইত্যাদিতে আসেন এলাকার মানুষ। এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহরে পৌঁছোতে হয়। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে সমস্যার সম্মুখীন হন রোগীর পরিজনরা। ৪-৫ কিমি ঘুরপথে পালপাড়া বা নতুন বাজার হয়ে তুফানগঞ্জে পৌঁছোতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ললিত বর্মন ও মনছুর আলি জানান, তাঁরা জন্মের পর থেকেই দেখছেন বর্ষাকালে পুরুষরা গামছা পরে গলা পর্যন্ত জল ভেঙে নদীর ওপারে গিয়ে পোশাক পরে তুফানগঞ্জে বিভিন্ন কাজে যান। তখন থেকেই নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, পঞ্চায়েতের প্রধান, বিডিওকে পাকা সেতুর দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হচ্ছে। সকলেই আশ্বাস দিয়েছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তুফানগঞ্জ ইলাদেবী উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী রাখি বর্মন ও তুফানগঞ্জ এনএনএম হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বিপ্লব বর্মন জানায়, ঘাড়ে সাইকেল নিয়ে এক হাতে বাঁশ ধরে একটি বাঁশের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হতে হয়। বন্যা হলে স্কুলে যাওয়া হয় না। কয়েকবার সাঁকো থেকে নদীতে পড়েও গিয়েছিলেন। তারা ওখানে একটি পাকা সেতু চাইছে।

অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধরণীকান্ত বর্মন বলেন, ওখানে পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকলেই নিত্যদিন তুফানগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটছে। এবছর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক শুভজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কী করে সমস্যা মেটানো যায় তা ভেবে দেখব।