স্বাস্থ্যবিধি শিকেয়, কৃষক বাজারে মোদি ভাতা নিতে উপচে পড়ল ভিড়

274

রায়গঞ্জ: মোদি ভাতা নিতে শনিবার রায়গঞ্জের উদয়পুরে ভিড় উপচে পড়ল কৃষকদের। রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার কৃষক মোদি ভাতার জন্য নথি নিয়ে সকাল থেকে হাজির হন। এদিন কারোর মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। নথি জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক দূরত্ববিধির বালাইও ছিল না। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে যখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের তরফে সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তখন এদিন রায়গঞ্জের উদয়পুরে কৃষকদের ভিড় নতুন করে প্রশ্ন জাগিয়েছে অনেকের মনে।

অন্যদিকে এদিন কয়েকশো কৃষক ন্যায্য মূল্যে ধান নিয়ে হাজির হয়েছিল এই বাজারে। পাশাপাশি শস্য বীমার জন্য ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য পড়েছিল বিশাল লাইন। আবার রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তরফে এখানেই এদিন দেওয়া হয় ন্যাপসেক স্প্রেয়ার প্রদান কর্মসূচি। একসঙ্গে এতগুলি কর্মসূচি কৃষক বাজারে হওয়ার পা ফেলার জায়গা ছিল না। করোনা স্বাস্থ্যবিধি নামমাত্র চোখে পড়েনি। এজন্য দপ্তরের আধিকারিক থেকে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি উপভোক্তাদের দায়ী করেছেন।

- Advertisement -

কৃষি দপ্তরের আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ রায় জানান, প্রধানমন্ত্রী কিষাননিধি যোজনায় ভাতা দেওয়ার জন্য রায়গঞ্জ ব্লকের কৃষকদের ফর্ম ফিলাপ চলছে। কৃষকদের জন্য বাৎসরিক একটা টাকা ধায্য করা হয়েছে সেটা পাবে।

গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে আগামীকাল পর্যন্ত চলবে। এই ফর্মফিলাপের জন্য শনি ও রবিবার ছুটি আমাদের বাতিল করা হয়েছে। রায়গঞ্জ ব্লকে ৩৮ হাজার কৃষক আছে। তবে একটা টার্গেট বেধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শস্যবীমার কাজ চলছে। প্রত্যেক কৃষককে বিনামূল্যে শস্য বীমা করানো হচ্ছে। বিধান প্রামানিক নামে এক কর্মী জানান, সকাল ৯টা থেকে ফর্ম জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। এই দুইদিনে ১৫হাজার ফর্ম জমা নিতে হবে। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রায়গঞ্জ ব্লক সভাপতি মানস কুমার ঘোষ এদিন প্রধানমন্ত্রী কিষাননিধি যোজনার ফর্ম জমা দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি কৃষকবন্ধু প্রকল্প চালু করেছেন। তাঁরা বছরে ৫ হাজার টাকা ভাতা পান। পাশাপাশি ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোনো কৃষকের মৃত্যু হলে ২ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ পান। এই ব্লকে প্রায় ২৮ হাজার উপভোক্তা কৃষক ভাতা পেয়ে থাকেন। তাই কিষাননিধি নিয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।‘