গাজোলে পয়লা মাঘের পুণ্যস্নানে পুণ্যার্থীদের ভিড়, আশায় দোকানিরা

248

গাজোল: কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে শুক্রবার দুপুর থেকে চলছে পয়লা মাঘের পুণ্যস্নান। হাজার হাজার মানুষ মহানন্দা নদীতে স্নান করে আলুর তরকারি মুড়ি খেয়ে কাঠের আসবাবপত্র কিনে ফিরছেন বাড়িতে। তবে এদিন সকাল থেকেই ঘনকুয়াশা এবং তারসাথে করোনা পরিস্থিতির জন্য পুণ্যার্থীদের ভিড় অনেকটাই কম। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি বাট্টা হয়েছে অনেকটাই কম। তবে নামে গঙ্গাস্নানের মেলা হলেও এই মেলাতে আসেন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সম্প্রীতির মেলা হিসেবে পরিচিত গাজোলের আলাল ঘাটের গঙ্গাস্নান। তবে এই মেলাতে অন্যান্য জিনিসপত্র থেকে আধিক্য দেখা যায় কাঠের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্রের। ছোট্ট পিঁড়ি থেকে শুরু করে বক্স-খাট সবই পাওয়া যায় এই মেলাতে।

অন্যান্যবার সকাল থেকেই শুরু হলেও এদিন প্রবল কুয়াশা এবং সূর্য না ওঠার কারণে স্নান শুরু হতে অনেকটা বেলা হয়ে যায়। মূলত দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় স্নান। স্নান সেরে মা গঙ্গার পুজো দিয়ে লুচি, আলুর তরকারি, মুড়ি খেয়ে মেলাতে ঘুরে কেনাকাটা শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। কেনাকাটা বলতে মূলত কাঠের আসবাবপত্র। নদীর পশ্চিম পাড়ে বিরাট এলাকা জুড়ে বসেছে মেলা। বিভিন্ন জেলা থেকে কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন দোকানিরা।

- Advertisement -

তবে এবার বিক্রি সেভাবে নেই বললেই চলে। আসবাবপত্রের দোকানি অসীম সূত্রধর, চঞ্চল সূত্রধর, তপন সূত্রধররা বলেন, ‘বহু টাকা খরচ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থেকে এসে মেলাতে দোকান দিয়েছি। কিন্তু এবার বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। ঘন কুয়াশার জন্য সকাল থেকে মানুষ আসেননি। দুপুরের পর থেকে মানুষজন আসতে শুরু করলেও বিক্রি তেমনভাবে জমেনি। জানি না শেষ পর্যন্ত কি হবে। মাত্র একদিনের মেলা তাই যা হওয়ার এদিনই হবে। নাড়ু, খাজা, কদমা নিয়ে এবারই প্রথম বাহারাল থেকে মেলাতে এসেছেন সুভাষ মহালদার। তিনিও জানালেন বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। এবার এখানে এসে বোধহয় লাভের থেকে লোকসান হয়ে যাবে।’

মেলাতে এসেছেন সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল হালিম, আহসানুল্লাহদের মতো মানুষেরাও। নাতিনাতনীর হাত ধরে মেলাতে এসেছেন তাঁরা। তাঁরা জানালেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই মেলাতে আসছেন। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এই মেলাতে আসে। মেলাতে ঘুরে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আবার বাড়ি ফিরে যায় তাঁরা। যতদিন চলার শক্তি থাকবে এই মেলাতে আসবেন।

মেলাতে আসা মানুষদের নদী পারাপার সুগম করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর উপর তৈরি করেছেন অস্থায়ী সাঁকো। নৌকোর উপর পাটাতন বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সাঁকো। ব্রিজ ব্যবহার করে মেলায় আসতে গেলে অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হয়। তাই সময় এবং পরিশ্রম বাঁচাতে প্রায় প্রত্যেকেই এই অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন।

আকাল মহলদার, রতন দাস, সঞ্জয় দাস, মৃনাল দাস বলেন, ‘প্রচুর পরিশ্রম করে এই অস্থায়ী সাঁকো বানানো হয়েছে। আশা ছিল প্রচুর মানুষ জন পারাপার হবেন। কিন্তু সেই তুলনায় ভিড় এবার অনেকটাই কম। তাই খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি আমরা।’

তবে বেলা বাড়ার পর থেকে মেলাতে মানুষজনের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ভিড় দেখে আশায় রয়েছেন দোকানিরাও। শেষ বেলায় কিছু বিক্রির আশা করছেন তাঁরা।