প্রবল বর্ষণে ধসে গিয়েছে কালভার্ট, সমস্যায় কয়েক হাজার মানুষ

403

গাজোল: একদিকে প্রবল বর্ষণ এবং অন্যদিকে খাঁড়ির জলস্রোত, এই দুইয়ের জেরে ধুয়ে গেল কালভার্টের একদিকের মাটি। যার ফলে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল বেশ কয়েকটি গ্রামের। পঞ্চায়েতের কাছে দরবার করার পর আপাতত বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি পেতে দিয়ে কোনওরকমে ভাঙা অংশ পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাছের গুড়ি পুঁতে দিয়ে বড়োসড়ো ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসীরা চাইছেন, অবিলম্বে মাটি দিয়ে ভরাট করা হোক এই ভাঙা অংশ। তা না হলে আগামী দিনে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনা গাজোলের আলাল অঞ্চলের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের। এখান থেকেই একটি রাস্তা শ্রীকৃষ্ণপুর ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে চাতর ঘাট পর্যন্ত চলে গিয়েছে। এই রাস্তায় প্রবেশের মুখেই রয়েছে একটি বড়সড় খাঁড়ি। আর তার উপরে রয়েছে কালভার্ট। মাসচারেক আগে প্রবল বৃষ্টি এবং খাঁড়ির জলস্রোতের ফলে ধুয়ে যায় একদিকের বেশ কয়েক মিটার এলাকার মাটি। যার ফলে মূল রাস্তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শ্রীকৃষ্ণপুর, ইট বান্ধা, সুরমনি, উত্তর এবং দক্ষিণ রাজারামচক, মহাকালবোনা, হঠাৎপাড়া প্রভৃতি এলাকার।

- Advertisement -

চরম সমস্যায় পড়েন এই সমস্ত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সমস্যার সমাধানের জন্য এলাকাবাসীরা আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়। রাস্তা অবরোধও করা হয়। এরপর পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি পেতে দিয়ে কোনওরকমে চলাচলের ব্যবস্থা করা দেয়। ভাঙনরোধের জন্য পোঁতা হয় বেশকিছু গাছের গুড়ি। কিন্তু এলাকার মানুষ চাইছেন, অবিলম্বে মাটি ভরাট করে চলাচলের সুব্যবস্থা করুক গ্রাম পঞ্চায়েত।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্যরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, মাস চারেক আগে এই কালভার্টের একদিকের মাটি ধুয়ে যায়। যার ফলে এই রাস্তা ব্যবহারকারী কয়েক হাজার মানুষ চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতে জানিয়েছিলাম। রাস্তা অবরোধও করা হয়েছিল। এরপর এলাকা পরিদর্শনে আসেন প্রধান লক্ষ্মী হালদার, উপপ্রধান ফারুক হোসেন, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নিশিকান্ত সিংহ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার।

তাঁরা এসে সবকিছু দেখে গিয়ে ভাঙা অংশে বেশ কয়েকটি গাছের গুঁড়ি পোঁতার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া আর কোনও কাজ হয়নি। ভাঙা অংশে তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি পেতে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন। একই কথা শোনালেন মহাকাল বোনার বাসিন্দা মোঃ আমাইতুল্লা, রাজারামচকের বাসিন্দা মেমতাউজ্জামান। তাঁরা জানালেন, সুবিধার জন্য এই রাস্তাটাই ব্যবহার করেন তাঁরা। কিন্তু মাটি ধসে যাওয়ার ফলে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কোনওরকমে চরম ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল এবং মোটরসাইকেল নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। রাস্তায় ছোট গাড়ি, ভ্যান-রিকশা বা ভুটভুটি ঢুকতে না পারার জন্য কৃষকরা তাদের ফসল আনতে পারছেন না। সাধারণ মানুষও এই সমস্ত যানবাহনের সুবিধা নিতে পারছেন না। যার ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁরা চান, এই রাস্তার গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

এই বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ফারুক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কালভার্টের ওই অংশটি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। তবুও এলাকাবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আপাতত বিদ্যুতের খুঁটি পেতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাছের গুড়ি পুঁতে দিয়ে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যেহেতু এখন বর্ষাকাল চলছে এবং খাঁড়িতে জল রয়েছে তাই মাটি ভরাটের কাজে কিছু সমস্যা রয়েছে। জল একটু কমলেই আমরা ভাঙা অংশে মাটি ভরাট করে উপরে কংক্রিট ঢালাই করে দেব।