ভোটারদের মন জয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা হাতিয়ার তৃণমূলের

211

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: শুরু হয়ে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওয়ার্ম আপ পর্ব। বৃহস্পতিবার রাতে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে ভোটারদের মন জয় করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাকেও হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। একপ্রকার দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে ওই দুই দলের মধ্যে। তবে লোক টানতে যে শুধু মিটিং মিছিলেই কাজ হবে না, তা বিলক্ষণ বুঝেছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার মাদারিহাটের খয়েরবাড়ি হাই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তৃণমূল। গভীর রাত পর্যন্ত ভলিবল প্রতিযোগিতা চলে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার আটটি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতিটি ম্যাচের মাঝেই আমন্ত্রিত শিল্পীদের নাচ, গানের মধ্য দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন মাদ্রাসা চত্বরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি মাদ্রাসা চত্বরে মেলা বসেছিল। এছাড়া দলের তরফে এলাকার পঞ্চাশ জন দুঃস্থকে কম্বলও দেওয়া হয়।

- Advertisement -

দলীয় সূত্রের খবর, সঞ্জয় লামা তৃণমূলের মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর জনসংযোগে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। জনসংযোগমূলক কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই মাদারিহাট বিধানসভা আসনের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের অনুষ্ঠানের প্রাথমিক ছক তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই করা হয়ে গিয়েছে। মাদারিহাট বীরপাড়া বিধানসভা আসনটিতে বিভিন্ন ভাষার মানুষ বসবাস করেন। তাই নেপালি সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় নেপালি, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসী, বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বাংলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজবংশি ও নস্য শেখ সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় ভাওয়াইয়া গানের আসর বসিয়ে জনসংযোগ আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। কয়েকদিনের মধ্যেই গোপালপুর চা বাগান, ডিমডিমা চা বাগান, লঙ্কাপাড়া চা বাগান, বীরপাড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত, খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জলদাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের তরফে এই ধরনের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সম্পাদক তথা মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, ‘প্রথম দফায় বঙ্গধ্বনি কর্মসূচির মাধ্যমে মাদারিহাট বিধানসভা আসনের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পূর্ণ করেছি। কিন্তু এতে বেশ কিছু প্রত্যন্ত এলাকা বাদ পড়ে গিয়েছে। তাই আমরা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রতিটি মৌজায় ফের ওই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব শুরু করতে চলেছি। তার মাঝে এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও আন্তরিক হবে। এছাড়া সবাই মিলে আনন্দ উপভোগও করা যাবে।’

প্রসঙ্গত, মাদারিহাট বিধানসভা আসনটি বিজেপির হাতে রয়েছে। মাদারিহাটে ২০১১ সালে বাম প্রার্থীর কাছে এবং ২০১৬ সালে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী। ২০১৬ সালে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরপাড়ায় এসে প্রচার করলেও লাভ হয়নি। তাই এবছর মাদারিহাট দখলে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। দুয়ারে সরকারের মতো কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হেল্প ডেস্কে বসে গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি এবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেও ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। তবে এসবে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তালাপ কম ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে গল্পগুজব দ্বারা ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বার্তা দিতে চাইছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যেমন, শুক্রবার খয়েরবাড়ি হাই মাদ্রাসায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের খয়েরবাড়ি অঞ্চল কমিটির সভাপতি জবাইদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। বদলে তিনি বর্তমান যুগের উঠতি প্রজন্মের ওপর মোবাইল ফোনের কুপ্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। শিশু, কিশোরদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে তাদের ওপর নজর দিতে বলেন অভিভাবকদের। পাশাপাশি, দেহ ও মন ভালো রাখতে খেলার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।