করোনা-কার্ফুতে বিপাকে ফরাসি ওপেন আয়োজকরা

প্যারিস : বৃহস্পতিবার ৩৫তম জন্মদিন উদযাপন করলেন রাফায়েল নাদাল। নিজের জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখলেন ফরাসি ওপেনে রিচার্ড গাস্কেকে হারিয়ে।

কিন্তু নাদালের এই জয় সরাসরি দেখার জন্য ফিলিপ স্যাঁতিয়ের কোর্টে কোনও দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ফরাসি ওপেন সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য একটি মার্কিন বহুজাতিকের সঙ্গে চুক্তি করেছেন আয়োজকরা। এই চুক্তি অনুয়ায়ী প্রতিদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রাতের দিকে আয়োজন করতে হবে। সূচি অনুয়ায়ী স্থানীয় সময় রাত নটা থেকে সেই ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। আবার ফরাসি সরকারের কার্ফু রাত ৯টা থেকেই কার্যকর হয়। ফলে ফরাসি ওপেনে উপস্থিত দর্শকরা মোটামুটি ৮.৩০ থেকে স্টেডিয়াম ছাড়তে থাকেন। এমন অবস্থায় দর্শকশূন্য গ্যালারির সামনেই খেলছেন নাদাল, সেরেনা উইলিয়ামসরা।

- Advertisement -

এমনিতে ফরাসি ওপেনে ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির ছাড়পত্র রয়েছে। ফলে রাতে ফাঁকা গ্যালারির সঙ্গে খেলা নিয়ে অখুশি তারকারা। বিষয়টি নিয়ে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কতা বলেছেন টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর গাই ফরগেট। তাঁর কথায়, আমি ওদের বলেছি, এই বিষয়টি যে অস্বস্তিকর তা জানি। তবে স্পন্সরদের দেওয়া অর্থেই আমরা তোমাদের পুরস্কার দেব। তাই তোমাদের অন্তত একটা ম্যাচ দর্শক ছাড়াই খেলতে হবে। ৮ জুন অবশ্য কার্ফু উঠে যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে ৯ জুন থেকে এমন ম্যাচে দর্শকের উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা থাকবে না।

এবছর সূচি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সম্প্রচারকদের মত প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরগেট। প্লেয়ারদের দেশে সম্প্রচারের সময়ে সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত মেনে নাওমি ওসাকা বা কেই নিশিকোরির মতো জাপানিদের ম্যাচ দুপুরের দিকে এবং সেরেনা উইলিয়ামসের মতো মার্কিন তারকার ম্যাচ রাতের দিকে রাখা হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের ওই ম্যাচে খেলার জন্য নাদালের পাশাপাশি রজার ফেডেরারে নামও লড়াইয়ে ছিল। আগের রাতে ম্যাচ খেলায় নোভাক জকোভিচকে বাদ দেওয়া হয়। গাস্কের বিরুদ্ধে নাদাল সমস্যায় পড়বেন, এই ভাবনার থেকে এই স্প্যানিস মায়েস্ত্রোর ম্যাচ রাতে ফেলা হয়।

ঠিক সময়ে গ্যালারি ফাঁকা করতে গিয়ে ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের স্টেডিয়াম ছাড়তে বলা হচ্ছে। দর্শকরা সহযে বিষয়টি মানছেন বলেও জানিয়েছেন ফরগেট। তাঁর কথায়, বুধবার বিকেলের পর হওয়া ক্রিস্টিয়ান গারিন ও ম্যাকেঞ্জি ম্যাকডোনাল্ডের ম্যাচ পঞ্চম সেট পর্যন্ত গড়ায়। সময় হয়ে যাওয়ায় আমরা দর্শকদের চলে যেতে বলি। ওরা একেবারেই আমাদের কথায় খুশি হয়নি। উল্টে যতক্ষণ পেরেছে স্টেডিয়ামে থেকেছে। এমনকি বাইরে গিয়ে স্টেডিয়ামের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে প্লেয়ারদের সমর্থন করেছে। সবমিলিয়ে প্লেয়ারদের পাশাপাশি দর্শকরাও আয়োজকদের কাজে বিরক্ত।