২২টি পঞ্চায়েতে কাস্টোডিয়ান নিয়োগের নির্দেশিকা ঘিরে প্রশ্ন

327

খোকন সাহা, বাগডোগরা : শিলিগুড়ি মহকুমার চারটি ব্লকের ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাস্টোডিয়ান নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনামা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও নয়া নিদের্শিকার জেরে পরিষেবা দেওয়া নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণ, ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে চার্জ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কাস্টোডিয়ান হচ্ছেন চারটি ব্লকের বিডিও। চার্জ অফিসার শুধু প্রশাসনিক কাজকর্ম দেখবেন। অর্থনৈতিক দায়ভার থাকবে বিডিওর উপর। এর ফলে বিডিওর উপর কাজের চাপ অত্যধিক বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সমস্যার সূত্রপাত ১০ নভেম্বর রাজ্যের স্পেশাল সেক্রেটারির জারি করা একটি নির্দেশ ঘিরে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার পর প্রথম সভা হয় ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে। ওই দিন থেকে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ৫ বছরের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণের সুবিধার্থে কাস্টোডিয়ান নিয়োগ করতে হবে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকবে বিডিওর উপর। অর্থাত্ আয়-ব্যয় সহ সমস্ত কিছু বিডিওর তত্ত্বাবধানে হবে। অথচ ২০১৪ সালে রাজ্য সরকারের স্পেশাল সেক্রেটারি যে নির্দেশ জারি করেছিলেন, সেই নির্দেশিকায় বিডিও অফিসের অফিসারদের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাস্টোডিয়ান নিয়োগ করার কথা বলা ছিল। তাঁদের কাজ হবে প্রধানের মতোই। আয়-ব্যয় সহ প্রশাসনিক সমস্ত কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।

- Advertisement -

কিন্তু নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের ভাউচার, খরচের হিসেবপত্র বিডিওর কাছে দিয়ে আসতে হবে। তিনি সবকিছু খতিয়ে দেখার পর লেনদেন হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী সহ বিডিও অফিসের কর্মীদের আশঙ্কা, এতে বিডিওদের উপর কাজের বোঝা যেমন বাড়বে, তেমনি কাজের গতি মন্থর হবে। জনসাধারণ সময়মতো পরিষেবা পাবেন না। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হবে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিদায়ি সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, এই নির্দেশে সাধারণ মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে। উন্নয়নের গতি মন্থর হবে। পঞ্চায়েতের ক্যাশবুক নিয়ে কর্মীদের হয় বিডিওর কাছে যেতে হবে, না হলে বিডিওকে পঞ্চায়েত অফিসে যেতে হবে। এজন্য দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিলিগুড়ির প্রতি কোনও গুরুত্ব দেয় না। এ বিষয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিদায়ি বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষ বলেন, এর আগে যখন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে কাস্টোডিয়ান নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন কাস্টোডিয়ানরা নিজেদের কাজ করতেন। এতে খারাপ হয়েছে। এজন্য এবার বিডিওদের মাথায় রাখা হয়েছে। আমার মনে হয় সিদ্ধান্ত ঠিক হয়েছে।