ফের বেটিং-যোগ আইপিএলে, শুরু বিতর্ক

মুম্বই : আইপিএলের নতুন দুই দলের নিলাম শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা কাটার আগেই নতুন বিতর্ক। আহমেদাবাদ ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিক সিভিসি ক্যাপিটালসের সঙ্গে বেটিং সংস্থার যোগাযোগ ইস্যুতে সমস্যার সিঁদুরে মেঘ। ঘোলা জলে মাছ ধরতে মাঠে নেমে পড়ছেন নির্বাসিত প্রাক্তন ক্রিকেট কর্তা ললিত মোদিও। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বোর্ড সূত্রে খবর।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিভিসি ক্যাপিটাল বিভিন্ন সংস্থায় আর্থিক লগ্নি করার জন্য পরিচিত। তাদের অধীনে থাকা ইরেলিয়া কোম্পানি ৫,৬০০ কোটি টাকার বিনিময়ে আহমেদাবাদ ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিকানা পেয়েছে। বিদেশে বিভিন্ন জুয়া ও বেটিং সংস্থায় বিনিয়োগ করেছে সিভিসি ক্যাপিটালস। এতেই বিতর্ক। ভারতে যে কোনও ধররে জুয়া ও বেটিং নিষিদ্ধ। পাশাপশি আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী মালিকপক্ষের কেউ বেটিং বা এই ধরণের কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না। অতীতে বেটিং-যোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে দুবছরের জন্য নির্বাসনেও পাঠানো হয়েছে। সেখানে আরেক ফ্র‌্যাঞ্চাইজি মালিকের সঙ্গে বেটিং-যোগের অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে বিসিসিআই।

- Advertisement -

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, জয় শা-দের বিব্রত করে টুইট করেছেন ললিত মোদিও। তিনি লিখেছেন, মনে হয় এখন বেটিং সংস্থাও আইপিএলে দল কিনতে পারে। অবশ্যই একটা নতুন নিয়ম। দৃশ্যত, নিলামে সফল এক পক্ষের একটি বড় বেটিং সংস্থা রয়েছে। এরপর কী? বিসিসিআই কি ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করেনি? এই বিষয়ে দুর্নীতি-দমন শাখা কী করবে? সিভিসি ক্যাপিটালের অধীনস্থ সংস্থা নিলামে যোগ দেওয়ার ছাড়পত্র কীভাবে পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কীভাবে বিষয়টি বিসিসিআইয়ে কর্তাদের নজর এড়িয়ে গিয়েছে স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে আদানী গোষ্ঠীও। আহমেদাবাদ ফ্র‌্যাঞ্চাইজি কেনার জন্য ৫১০০ কোটি টাকা দর দিয়েছিল তারা। যদিও বাজিমাৎ করে সিভিসি ক্যাপিটালস।

অবশ্য সিভিসি ক্যাপিটালসের বেটিং-যোগ নিয়ে এখনই আলোচনার কিছু নেই বলে মনে করছে বিসিসিআই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তার বক্তব্য, ভারতে নিষিদ্ধ হলেও বিশ্বের বহু দেশে বেটিংয়ের আইনি স্বীকৃতি আছে। ফলে অর্থলগ্নি সংস্থা হিসেবে সিসিভি বেআইনি কিছু করছে না। আর আহমেদাবাদ ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিক ইরেলিয়া কোম্পানি। এই কোম্পানিতে সিভিসির লগ্নি থাকতেই পারে। ইরেলিয়ার ম্যানেজমেন্ট বা নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকলে সমস্যার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আর বেটিং ও ম্যাচ গড়পেটা দুটি পৃথক বিষয়। এদের একই আসনে বসানো ঠিক নয়। তবে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সিভিসির বেটিং-যোগ নিয়ে আইনি জটিলতার দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন বিসিসিআই কর্তারা।