‘আঁতাত’ প্রশ্ন স্পষ্ট হতেই সিব্বালের বিতর্কিত পোস্ট ডিলিট

442

নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোমবার প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ দলের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধির বেফাঁস মন্তব্যের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ‘বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ’ হওয়ার জন্য ২০ জনের অধিক মতবিরোধী চিঠি লেখকদের অভিযুক্ত করার মন্তব্যের পরে দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করার একপ্রকার হুংকার দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা।

এদিন কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির সু-নেতৃত্বের ইশ্যুতে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দলের অন্যতম ২০ জনের অধিক নেতা চলতি মাসের গোড়ার দিকে সোনিয়া গান্ধির কাছে প্রকৃত নেতৃত্বের অভাব এবং দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক সমস্যার সমাধানের কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠির অবশ্য রাহুল এবং দলের কয়েকজন নেতা সমালোচনা করেছিলেন।

- Advertisement -

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল মন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘রাহুল গান্ধি বলেছেন আমাদের বিজেপির সঙ্গে আঁতাত রয়েছে। রাজস্থান হাইকোর্টে কংগ্রেসকে রক্ষা করেছিলাম। মণিপুরে বিজেপিকে হারিয়ে দলের সঙ্গ দিয়েছি। গত ৩০ বছরে বিজেপির সমর্থনে একটাও মন্তব্য করিনি। তবুও বিজেপির সঙ্গে আমাদের আঁতাত?’

এরপরই সিব্বালের পোস্টকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয় উত্তেজনা। কংগ্রেসের রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, সিব্বালের পোস্টকে নস্যাৎ করে তিনি দাবি করেন, ‘রাহুল এই জাতীয় কিছুই বলেননি। এমন ধরনের মন্তব্য রাহুল গান্ধি করতে পারেন না।’ রণদীপ সিব্বালকে উপদেশ দেন, ‘মিথ্যা মিডিয়া বক্তৃতা বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ভুল পথে চালিত করবেন না। তবে হ্যাঁ, আমাদের সবাইকে লড়াইয়ের চেয়ে কট্টর মোদি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একত্রে কাজ করা দরকার। একে অপরকে ও কংগ্রেসকে ক্ষতিগ্রস্ত করা একজন প্রকৃত কংগ্রেসকর্মীর কাজ নয়।’

এরপরই সিব্বাল সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিতর্কিত পোস্টটি মুছে দেন এবং তাঁর মাইক্রো ব্লগিং সাইটে লেখেন, ‘রাহুল গান্ধিকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিল যে তিনি এরূপ কোনও মন্তব্য কখনও বলেননি। তাই আমি আমার পোস্টটি প্রত্যাহার করছি।’

সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধি তাঁর বক্তৃতায় ২০ জনের অধিক কংগ্রেস নেতা স্বাক্ষরিত এই চিঠির সময় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। বৈঠকে রাহুল গান্ধি বলেন, ‘এটি সিডব্লিউসি, মিডিয়া নয় যেখানে আমরা আমাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছি এবং আলোচনা করব।’

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটিতে অন্তর্বর্তীকালীন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধির পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়ে নতুন দলের প্রধান নির্বাচন করার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলে সূত্রের খবর। কংগ্রেস সভাপতির ‘পুরো সময় ও দৃশ্যমান’ সন্ধানের জন্য নেতাদের একাংশের পরিপ্রেক্ষিতে ডাকা সভায় তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে সোনিয়া গান্ধি এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপালকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দেওয়ার কথা বলে এই পদত্যাগ করার প্রস্তাব দেন।