ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে মামলা

258

রায়গঞ্জ: পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শিক্ষা জগতে নিন্দার ঝড় উঠে। সেই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি ওঠে। রবিবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাকের ভিজিট শেষ হয়েছে। এদিন ছিল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে অধ্যাপকের বিষয়টি তোলা হয়। রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার জানান, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার তদন্ত করবে। পাশাপাশি দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ  কমিটি, অন্যটি একক কমিটি। প্রথম কমিটিতে রয়েছেন অধ্যাপক শকুন্তলা গুপ্ত, অধ্যাপক সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক রিনি মুখোপাধ্যায়, গ্রন্থাগারিক অজয় মিশ্র এবং শিক্ষাকর্মী বিপ্লব রায়। আর বিজ্ঞান বিভাগের ডিন কালীশংকর তিওয়ারির নেতৃত্বে একক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

- Advertisement -

এদিন ইসি মিটিং শেষ হতে না হতেই রেজিস্ট্রার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কর্ণজোড়ায় সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। সেইসঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা এদিন উপাচার্যর সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্ত অধ্যাপককে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।প্রাক্তন ছাত্রদের পক্ষে তুষার গুহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের লজ্জা ওই অধ্যাপক। তিনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আড়াই মাস আগে ওই ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েও কেন চুপ করে থাকল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিযুক্ত অধ্যাপককে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা।

রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, ‘আমরা ওই ছাত্রীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’