ভোটে এখন কাজ ফুরিয়েছে সাইকেল মেসেঞ্জার রতনবাবুর

78

চাঁদকুমার বড়াল কোচবিহার : একটা সময় ছিল, তাঁদের ছাড়া ভোটপর্ব মিটত না। কিন্তু এখন তাঁদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। সময়ে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পালটে গিয়েছে অনেক কিছুই। ঠিক যেমন পালটেছে বুথে, বুথে সাইকেল মেসেঞ্জার এবং ওয়াটার ক্যারিয়ারদের কাজ। অথচ কয়েক বছর আগের চিত্রটা কিন্তু তা ছিল না। প্রত্যেক বুথে সাইকেল মেসেঞ্জার এবং ওয়াটার ক্যারিয়ারদের নেওয়া হত নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেই। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক মিলত তাঁদের ভোটের কাজ করার জন্য। কিন্তু এখন সেইসব অতীত। তাই ভোট এলে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন তাঁরা। ফিরে যান সেই দিনগুলোতে।

 ভোটে প্রত্যেক বুথে সাইকেল মেসেঞ্জারদের প্রয়োজন হত। বুথ থেকে ব্লক হেড কোয়ার্টার এবং ইনস্পেকটরদের কাছে খবর, রিপোর্ট নিয়ে যাওয়া, কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে হত। আর ছিলেন ওয়াটার ক্যারিয়ার। তাঁদের মূলত কাজ ছিল ভোটকর্মীদের জল থেকে শুরু করে খাবার দেওয়া, বুথের সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দিকে নজর রাখা। সকলের ডিউটি শুরু হত ভোটের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে ভোটপর্ব মেটা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যবহার, প্রযুক্তির উন্নতি এবং প্রত্যেক বুথে জল থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রিক এবং ন্যূনতম সুবিধা সব ঠিকঠাক রাখার বিষয়টি কমিশন বাধ্যতামূলক করার পর থেকে কিন্তু এই দুই শ্রেণির কর্মীর প্রয়োজন হয় না। অথচ আগে ভোট মানেই ডাক পড়ত এই সমস্ত কর্মীদের। বিভিন্ন গ্রামে ভোটের দিন আলাদা সমীহ ছিল তাঁদের। তাঁরাও ছিলেন তখন কমিশনের লোক।

- Advertisement -

কোচবিহার-২ ব্লকের চকচকা গ্রাম পঞ্জায়ে এলাকার নীলকুঠি বাজারে বাড়ি রতনচন্দ্র দাসের। তিনি একটানা প্রায় ত্রিশ বছর লোকসভা থেকে বিধানসভা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাইকেল মেসেঞ্জার কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এখন আর সেই কাজ নেই। রতনবাবু জানালেন, প্রথম যখন কাজটি করেন ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। আর যেবার শেষ বারের মতো করলেন সেই টাকা বেড়ে ১,২০০ হয়েছিল। তখন তো আর এত ফোনের চল ছিল না। প্রত্যেক ঘণ্টায় বুথ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে অফিসারকে ভোটের খবর দিয়ে আসতে হত। কত ভোট পড়ল, সমস্যা রয়েছে কি না। আরও অনেক কিছু। এখন আর সেই দিনও নেই। আর কাজও নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

হরি আইচ নামে অন্য এক ব্যক্তি ভোটের সময় ওয়াটার ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বললেন, সব মিলিয়ে চারটি নির্বাচনে তিনি কাজ করেছেন। ভোটকর্মীদের খাওয়ার জল, খাবার নিয়ে আসা  কাজ ছিল। এর সঙ্গে বুথে আলো জ্বালানোর জন্য হ্যারিকেন নিয়ে আসা, কেরোসিন তেল আনাও তাঁর কাজ ছিল। এখন আর ডাকে না। শুধু পারিশ্রমিক না কাজটির সঙ্গে যুক্ত থেকে ভালো লাগত বলে জানান তিনি।