জঙ্গল ও পাহাড়ি পথে এখন নয়া ট্রেন্ড সাইক্লিং

143

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : তুর দ্য ফ্রাঁস-এর নাম শুনেছেন? ফ্রান্সের এই সাইকেল প্রতিযোগিতার সুখ্যাতি আজ বিশ্বের সর্বত্রই। ১৯০৩ সালে সংবাদপত্রকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে এই প্রতিযোগিতার শুরু। পরে সময় যতই গড়িয়েছে এই প্রতিযোগিতার সুবাদেই মানুষের সাইকেল-প্রেমটার বাড়বাড়ন্ত। কোভিড পরিস্থিতির জেরে এবারে প্রতিযোগিতা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। শনিবার থেকেই অবশ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৯-এ করোনা এল। আমাদের জীবনে লকডাউন শব্দটি জুড়ল। কথায় বলে, জীবনে কিছু খারাপ হলে পাল্লা নিয়ে ভালোটাও হয়। হলও। বেশ কয়ে বছর ধরেই বিভিন্ন সংস্থা নতুন ধরনের সাইকেল নিয়ে বাজারে হাজির। সেগুলির দাপটে আমাদের বাংলা-সাইকেল আজ কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। করোনার সুবাদে এই সাইকেল আমাদের জীবনের সঙ্গে আরও আরও দৃঢ়ভাবে জুড়ে গিয়েছে। সেটা কেমন? শহর শিলিগুড়ি তা ভালোভাবেই জানে। ভোরে বিভিন্ন রাস্তায় সাইকেল চালানো থেকে শুরু করে রাতের উড়ালপুলে জোরকদমে প্যাডলিং, বিকেলে শহরের বিভিন্ন মাঠে দুচাকার রেস, শিলিগুড়ির ছত্রে ছত্রে আজকাল সাইকেল-প্রীতি। নতুন সংযোজন, সাইকেল নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে একা বা দলবেঁধে অদূরের রংটং, গুলমা, দুধিয়া, সেবকের বাঘপুল বা গজলডোবায় পাড়ি।

তথ্য বলছে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় থেকেই বাজারে সাইকেলের চাহিদা খুবই বেড়েছে। কলকাতার কথা মনে আছে? ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে সেবারে সমস্ত যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। অথচ অনেককেই অফিসে যেতে হবে। জ্বালানির যা দাম তাতে অনেকেরই রোজ বাইক নিয়ে অফিসযাত্রায় আপত্তি। তবে উপায়? অনেকেই সাইকেলকেই বেছে নিয়েছিলেন। সেই ছবি খবরের কাগজগুলিতে ঢাউস করে ছাপাও হয়েছিল। ভাবছেন কী কারণে আজকাল সবার এই সাইকেল-আসক্তি? অ্যালুমিনিয়াম বা কার্বন ফ্রেম, সুবিধাজনক সিট, ফাইবারের প্যাডেল, মজবুত গ্রিপের টায়ার, ন্যূনতম ৭ থেকে শুরু করে ২১ বা তারও বেশি গিয়ার (স্পিড কমাতে-বাড়াতে গিয়ার কাজে লাগে), ভি বা ডিস্ক অথবা হাইড্রলিক ব্রেক, মজবুত সাসপেনশন, আরাম করে চালানোর জন্য চওড়া হ্যান্ডেল।

- Advertisement -

ফলে প্যাডেলে পা পড়লেই এই সাইকেল ছোটে পাঁইপাঁই। শিলিগুড়িতে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকারও বেশি দামে এই সমস্ত সাইকেল বিক্রি হচ্ছে। ব্যাটারিযুক্ত ই-সাইকেলও রয়েছে। তবে তার দাম আরও বেশি। অনেকক্ষণ প্যাডেল মারতে মারতে পা টনটন করলে ব্যাটারির সাহায্য নিলেই হল। ব্যাটারিই এরপর সাইকেলকে টেনে নিয়ে যাবে। তবে শুধু সাইকেলই নয়, পাল্লা নিয়ে বিক্রি বাড়ছে অ্যাকসেসরিজেরও। এগুলির মধ্যে হেলমেট, গ্রিপ-গ্লাভস, সাইক্লিং শর্টস, জল রাখার জন্য ফ্রেম-ক্যারিয়ার, মাডগার্ড, এলইডি লাইটের মতো অনেক কিছুই রয়েছে।

চাহিদার যা অবস্থা তাতে মোটামুটি ভালো একটি সাইকেল আজকাল মোটামুটি মানের একটি মোটর সাইকেলকে পাল্লা দিচ্ছে অনায়াসেই। সাধে কী আর শিলিগুড়ির সাইকেল ব্যবসায়ী অনিকেত কুমার বলছেন, লকডাউনে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে তা অনেকটা পুষিয়ে গিয়েছে। মাসে কমবেশি ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। হাইব্রিড সাইকেলের আজকাল চাহিদা বেশি। রোড বাইকের চাহিদাও রয়েছে। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এই সাইকেলগুলি ব্যবহার করা হয়।

ফেরা যাক শিলিগুড়ির সাইকেল-আসক্তির কথায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও আজকাল সাইকেল চালাচ্ছে। শুধুই যে কমবয়সিরা তা নয়, তুলনামূলকভাবে একটু বেশি বয়সিরাও। বেসরকারি ব্যাংকের চাকুরে শ্রেষ্ঠা ঘোষ প্রতি শনি-রবি বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। শনিবার সুকনা রেলস্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রেষ্ঠার বক্তব্য, শিলিগুড়ির আশপাশটা যে এত সুন্দর তা আগে কখনও বুঝিনি। সাইকেলই তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সম্বিত বাগের পছন্দ মাউন্টিং সাইক্লিং। মাসদুয়েক আগে সাইকেল নিয়ে কার্সিয়াংয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে সাইক্লিং টিম বানিয়েছি। প্রথমে অল্প দূরত্ব দিয়ে শুরু। আজকাল শহর ছাড়িয়ে আমরা অনেকটাই দূরে পৌঁছে যাচ্ছি।