আমপান দুর্নীতি: ২৫ নেতা ও পদাধিকারীকে সাসপেন্ড তৃণমূলের

371

হলদিয়া: ত্রাণ বিতরণে দুনীর্তির অভিযোগে আগেই শোকজ করা হয়েছিল নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার প্রায় ২০০ জন তৃণমূল নেতাকে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেই মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের পঞ্চায়েত প্রধান এবং কয়েকজন অঞ্চল সভাপতি-সহ মোট ২৫ জনকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হল। সূত্রের খবর, এদিন দলীয় বৈঠকে অভিযুক্তদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় সাসপেনশনের চিঠি।

সাসপেনশনের তালিকায় রয়েছেন নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের কেন্দামারি জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানসুরা বেগম। নন্দীগ্রাম এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ভোলানাথ দাস। নন্দীগ্রাম এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির আরও এক সদস্য, ১০ জন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের ১২ জন বুথ ও অঞ্চল সভাপতি।

- Advertisement -

শাসক হিসেবে তৃণমূলের উত্থানের একেবারে ভিত্তি নন্দীগ্রামের বিভিন্ন পঞ্চায়েত থেকে এধরনের অভিযোগ ওঠায় কার্যত আরও কড়া হয়েছে শাসকদল। স্বজনপোষণের মধ্যে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নন, এমন কেউ টাকা পেয়ে থাকলে, তাঁদের থেকে টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যথা হলে এফআইআরের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সেদিনই বোঝা গিয়েছিল, দুর্নীতির তকমা ঘোচাতে কতটা মরিয়া শাসকদল।

তারই প্রথম পদক্ষেপ ছিল শোকজ। ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে দফায় দফায় বিক্ষোভের জেরে ২০০ জন নেতাকর্মী ও পদাদিকারীকে শোকজ করেছিল জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সোমবার ছিল সেই শোকজের জবাব দেওয়ার শেষ দিন। মঙ্গলবার ফের বৈঠকে বসে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই বৈঠকেই ২৫ জন নেতাকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

যদিও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাসপেন্ডেড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানসুরা বেগম। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কিছু জানি না। দল যা বলবে মেনে নেব। আমি নির্দোষ। কোনও দুর্নীতি করিনি।

নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ইতিমধ্যেই ৮৭ জন ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দিয়েছেন। টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আরও ৫০ জন।

এদিকে গোটা প্রক্রিয়াকে আইওয়াশ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ বলেন, দুর্নীতির পর টাকা ফেরত বা শাস্তি, সবটাই আইওয়াশ।