৫ রাজ্যে প্রভাব তওকতের, মৃত ৪

113

নয়াদিল্লি: শক্তি বাড়িয়ে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় তওকতে। একদিকে দেশে করোনা সংক্রমণের জেরে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্ণাটক। দিল্লির মৌসম ভবন সূত্রে খবর, ১৬ থেকে ১৯ মের মধ্যে ১৫০-১৬০ কিলোমিটার গতিতে প্রবল হাওয়া বইবে। তার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে। হাওয়ার গতিবেগ বেড়ে ১৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কর্ণাটক বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঝড়ের দাপটে কর্ণাটকে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্ণাটকের ৬টি জেলার ৭৩টি গ্রাম ঝরের দাপটে তছনছ হয়ে পড়েছে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। কেরালা, কর্ণাটক, গুজরাত, গোয়া এবং মহারাষ্ট্রে একাধিক দল মোতায়ন করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

অন্যদিকে, ঘূর্নিঝড় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা জরুরি বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে। বৃহন্মুম্বই কর্পোরেশন ঝড়ের আগাম সতর্কতা নিয়ে ৫৮০ জন করোনা রোগীকে কোভিড সেন্টার থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। মুম্বইয়ের গা ঘেঁষে এই ঝড় যাবে। তাই আগাম সতর্কতা নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে পুণে ও গোয়ায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখছে।

- Advertisement -

শনিবার রাতেই তওকতে কর্নাটক উপকূলে আছড়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বলেন, ‘এই মুহূর্তে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল সেখানে আছে। আমরা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীরও তিনটি দল মোতায়েন করেছি। কর্নাটকের তিনটি উপকূলবর্তী জেলায় ২৪ ঘণ্টা ১০০০ জন কাজ করছেন।’ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ‘উপকূলবর্তী এলাকায় আমরা ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যে জেলাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, যাতে উদ্ধারকাজ ঠিকভাবে চলে।’

মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় পূর্ব-মধ্য আরব সাগরের উপর অবস্থান করছে তওকতে। আপাতত সেই ঘূর্ণিঝড় গোয়ার পানজিমের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৩০ কিলোমিটার, গুজরাতের ভেরাবলের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে ৭০০ কিলোমিটার এবং মুম্বইয়ের দক্ষিণে ৪৫০ কিলোমিটারে দূরে অবস্থিত। আগামী কয়েক ঘণ্টায় তা শক্তি বাড়িয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় গুজরাত উপকূলে পৌঁছোবে। মঙ্গলবার সকালে পোরবন্দর এবং মাহুভার মধ্য দিয়ে সেই ঘূর্ণিঝড় গুজরাত উপকূল পার করবে।