আমেদাবাদ. ১৩ জুন : আসব আসব করেও পশ্চিমবঙ্গের কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ফণী। একইভাবে কয়েকদিন ধরে গুজরাট প্রশাসনকে তটস্থ রেখে শেষ মুহূর্তে অভিমুখ বদলাল ঘূর্ণিঝড় বায়ু। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, গুজরাটে এই ঝড় আছড়ে না পড়ার সম্ভাবনা বেশি। শেষ মুহূর্তে অভিমুখ বদল করে ফের সমুদ্রের দিকেই বাঁক নিয়েছে বায়ু। তবে গুজরাট উপকূলের পাশ দিয়েই বয়ে যাওয়ার জেরে ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে গুজরাটে। তাই এখনই হাই অ্যালার্ট তুলে নেওয়া হচ্ছে না।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিল, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গুজরাট উপকূলের দ্বারকা ও ভীরাভলের মাঝে স্থলভাগে ঢুকবে চলতি বছরের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬০ কিলোমিটারে পৌঁছানোর পূর্বাভাসও দেওযা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে অভিমুখ বদলেছে বায়ু। সেটি আবার সমুদ্রের অভিমুখেই এগোচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের চোখ পোরবন্দরে আছড়ে না-পড়লেও তার প্রভাব পড়বে উপকূলে। থাকবে ঝুঁকিও। কাজেই প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। ঝড়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে উপকূল লাগোয়া ৫০০ গ্রাম থেকে তিন লক্ষ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে গুজরাট প্রশাসন। এনডিআরএফের ৩৬টি দলকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১টি দলকে। এ ছাড়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, মেরিন কম্যান্ডোদের নামানো হয়েছে। ৪০টি ট্রেন বাতিল করেছে রেল। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি বন্দরের কাজ। গুজরাটের ত্রাণ সংক্রান্ত দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, ‘গুজরাট উপকূলের কাছ দিয়েই এই ঝড় বয়ে যাওয়ায় রাজ্যে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হতে পারে। সে জন্য সবাই স্ট্যান্ডবাই মোডেই থাকব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত সব বাহিনী সতর্ক থাকবে।’