কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ, অভিযোগ ডি রাজার

302

কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সার্বিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে দেশ থেকে বিজেপিকে হটানোর ডাক দিল সিপিআই। দলের রাজ্য দপ্তরে রাজ্য কমিটির বৈঠক বসেছিল। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা। বৈঠক শেষে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ডি রাজা বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার ইতিহাসে এই প্রথম বেকারত্ব আকাশ ছুঁয়েছে। এর মূল কারণ হল কেন্দ্রীয় সরকারের বিলগ্নিকরণ নীতি। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের চাইতে বহুজাতিক সংস্থাগুলির স্বার্থই বেশি দেখে চলেছে। তাই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাঁদের মূল শত্রু হল বিজেপি। এরাজ্যে বিজেপিকে হাত ধরে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এই রাজ্যে তাঁদের মূল শত্রু তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

সেই সঙ্গে তাঁর আরও অভিযোগ, দেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কোনওদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু বর্তমানে বিজেপির হাত ধরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। আর এর জেরে দেশের অর্থনীতি তলানিতে এসে ঠেকেছে। দেশের অর্থনীতির অবস্থা বাংলাদেশের চাইতেও করুণ বলে তিনি মনে করেন।

- Advertisement -

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করে ডি রাজা বলেন, কৃষি আইন এনে শুধু কৃষকদের মারতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার, মারতে চাইছে সাধারণ মানুষকেও। তাঁর মতে, এর জেরে দেশের বুকে খাদ্য সংকট নেমে আসবে। সেটা বুঝতে পেরেই সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। যা ঐতিহাসিক বলেও মনে করেন তিনি। এদিন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিলগ্নীকরণ নীতির বিরোধিতা করে বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করে পরিণত হয়েছে বেচে দেওয়ার সরকারে। আর তাতে মদত দিয়ে যাচ্ছে এরাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার।

সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে এরাজ্যে বাম ও কংগ্রেসকে তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সে ব্যাপারে করা প্রশ্নের উত্তরে ডি রাজা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস হল বিজেপিরই একটা অংশ। কীভাবে সেটাকে বামেরা সমর্থন করবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে হাজির সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের গণতন্ত্রকে যেমন ধ্বংস করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তেমনি স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছেন। শুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়েছেন। তাই তাঁরা চান, বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্যকে খাড়া করে নির্বাচনে লড়াই করতে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এখনও বেশ কিছুটা মতানৈক্য আছে ঠিকই। তবে তাঁরা আশা করেন, অচিরেই সেই মতানৈক্য মিটে যাবে এবং জোট হবে। সেই সঙ্গে তিনি এদিন জানান, তাঁরা মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই বাম ও কংগ্রেসের যে যৌথ ব্রিগেড সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সেখানেই জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারবেন।

অপরদিকে, ডি রাজা আরও বলেন, আরএসএসের মূলনীতি হল ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ শাসন করা। তাই তারা পিছন থেকে লাঠি ঘোরাচ্ছে। আরএসএসের সেই সদিচ্ছা কখনওই পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। তাঁরাও চান না ধর্মের ভিত্তিতে জনগণকে বিভাজন করতে।

সেই সঙ্গে ডি রাজা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি নীতির বিরুদ্ধে কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকারের তাতে কোনও মাথাব্যথা নেই। তাঁরা চান, অবিলম্বে কৃষক ও শ্রমিক বিরোধী আইনগুলি কেন্দ্র প্রত্যাহার করুক।