সানি সরকার, শিলিগুড়ি : শীতকালে শীর্ণকায়, শ্লথ গতি। কিন্তু বর্ষা এলেই ভযংকর রূপ ধারণ করে পঞ্চনই, যার গ্রাসে ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে আট একর চা বাগান। পুরো দাগাপুর চা বাগানটিই গ্রাস করতে পারে পঞ্চনই,  সেই আশঙ্কায় দিন গুনছে বাগান কর্তৃপক্ষ। যেভাবে পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটি ক্রমশ গতিপথ পরিবর্তন করছে, তাতে দ্রুত বাঁধ দেওয়া না হলে, আগামী বর্ষায় ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে মোহরগাঁ-গুলমা চা বাগানের সংযোগরক্ষাকারী একমাত্র রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে গতিপথ পরিবর্তনের জন্য নদীর চরে বসতি ও অবাধে বালি-পাথর উত্তোলনকেই দায়ী করা হচ্ছে। দাগাপুর চা বাগানের ম্যানেজার জগদীপ সিং সাঁধু বলেন, আপাতদৃষ্টিতে শান্ত মনে হলেও, নদীটি অত্যন্ত ভয়ংকর। যার প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন। একটু একটু করে চা বাগানের অনেকটা অংশই গিলে নিয়েছে। ভাঙনের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে বাগান-রাস্তা রক্ষা করাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমস্ত নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর চরে বসতি গড়ে ওঠা এবং প্রতিদিন নদী থেকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালি-পাথর তোলায় বাধ্য হয়ে গতিপথ পরিবর্তন করেছে পঞ্চনই। তার জেরে জমি হারাচ্ছে দাগাপুর চা বাগান। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই ভযংকর যে, পুরোনো বাঁধ ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে নদীবক্ষে। যার ফলে দাগাপুর চা বাগানের আট একর জমি গ্রাস করে নিয়েছে পঞ্চনই। সবমিলিয়ে কয়েক হাজার চা গাছ জলে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, নদীটি ক্রমশ এগিয়ে আসছে বাগানের মধ্যে দিয়ে চলাচলের একমাত্র পাকা রাস্তার দিকে। বর্তমানে রাস্তার থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র প্রায় ২৫ মিটার। কিছুদিনের মধ্যে এই দূরত্ব ঘুচিয়ে পঞ্চনই রাস্তাটিকেও গিলে খাবে বলে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে বাগান শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। রাস্তাটি ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে মোহরগাঁ-গুলমা চা বাগানের সংযোগ স্থাপন করেছে।

সোমরা ওঁরাও ও ফিলিসিটা লাকড়াদের মতো বাগান শ্রমিকদের বক্তব্য, চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি তাঁদের একমাত্র ভরসা। শুধু বাগানে আসা-যাওয়া নয়, স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ছেলেমেয়েরাও রাস্তাটি ব্যবহার করে। রাস্তাটি না থাকলে চরম বিপর্যয়ে মুখে পড়তে হবে। লোকনাথ মন্দিরের পিছনে বাড়ি রয়েছে গুলমা চা বাগানের শ্রমিক শম্ভু তিরকের। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই ভয় পাই। এই বুঝি রাস্তাটি চলে গেল নদীর মধ্যে। বুঝতে পারছি না কতদিন রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারব। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সচিব সুমিত ঘোষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েক বছর ধরে সেচ দপ্তরের কাছে দরবার করা হচ্ছে। বাগানটি রক্ষার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের একাধিক দপ্তরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। সেচ দপ্তরের এক এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অবশ্য বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বর্ষার আগেই বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।