করোনা: দেশে মোট সংক্রমণ ৩৩ হাজার ছাড়াল, মৃত ১০৭৪

374

নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে ভারতে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বৃহস্পতিবার সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। এর ফলে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০৭৪। এরমধ্যে মহারাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৪৩২ জনের। গুজরাটে মৃত্যু হয়েছে ১৯৭ জনের। মধ্যপ্রদেশও পিছিয়ে নেই। সেখানে মৃতের সংখ্যা ১২৯। দিল্লিতে মৃত ৫৬।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭১৮ জন। এই নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৩০৫০। মৃত্যু হয়েছে ১০৭৪ জনের। তবে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৩২৫ জন। অর্থাত্, দেশে সক্রিয় করোনা রোগী ২৩৬৫১ জন। মহারাষ্ট্রে মৃতের মতো আক্রান্তের সংখ্যাও অন্য রাজ্যগুলির চেয়ে বেশি। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯১৫ জন।

- Advertisement -

মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি গুজরাট, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ওই রাজ্যগুলিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪০৮২, ৩৪৩৯, ২৫৬১ ও ২৪৩৮। উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ২১৩৪ ও ৩৯। অন্ধ্রপ্রদেশের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ১৩৩২ ও ৩১।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত বাংলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫৮। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২৪ জন। অর্থাত্, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাবে রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগী ৬১২ জন। যদিও রাজ্য সরকারের গতকাল বিকেলের দেওয়া হিসেব বলছে, এ রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন ৫৫০ জন। মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২৪ জন।

এছাড়া তামিলনাড়ুতে মৃত ২৭ জন৷ পঞ্জাবে মৃত ১৯। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরে ৮, কেরলে ৪ এবং ঝাড়খন্ড, হরিয়ানায় ৩টি করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৷ বিহারে করোনায় মৃত ২। মেঘালয়, হিমাচল, ওড়িশা, অসমে একটি করে মৃত্যুু হয়েছে৷

এদিকে দ্বিতীয় দফার লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩ মে। সংক্রমণের নিরিখে গোটা দেশকে তিন ভাগে (লাল, কমলা ও সবুজ) ভাগ করে অর্থনীতির চাকা গড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, লাল ও কমলা চিহ্নিত অঞ্চল থেকে যথাক্রমে ২৮ ও ১৪ দিনের মধ্যে কোনও করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া না গেলে সেগুলিকে সবুজ (বিপন্মুক্ত) অঞ্চল বলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

বাংলার কালিম্পং জেলা গত ২৮ দিন করোনামুক্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কালিম্পংয়ের মতো এমন আরও ১৭টি জেলার কথা কেন্দ্র জানিয়েছে, যেখানে গত চার সপ্তাহে নতুন করে কোনও করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এই তালিকায় রাহুল গান্ধির সংসদীয় কেন্দ্র ওয়ানাডও আছে।

তবে লকডাউন চললেও সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। যদিও লকডাউন না থাকলে দুটোই আরও বাড়ত বলে দাবি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। তারা জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে দেশে হটস্পটের সংখ্যা ১৭০ থেকে কমে ১২৯ হয়েছে। অবশ্য ওই একই সময়ে করোনামুক্ত জেলার সংখ্যা ৩২৫ থেকে কমে ৩০৭ হয়েছে। নন-হটস্পট জেলার সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২৯৭ হয়েছে।