সানি সরকার, শিলিগুড়ি : পরিস্থিতি সামাল দিতে রোস্টার তৈরি করা হলেও পুজোর দিনগুলি কলকাতায় কাটালেন সিংহভাগ চিকিৎসক। আর তাঁদের অনুপস্থিতির খেসারত দিতে হল রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের। পুজোর পাঁচদিনে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হল ১০৩ জনের। এছাড়াও বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ জনের। যা প্রতিদিনের স্বাভাবিক মৃত্যুর হারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকের অভাবে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ডেপুটি সুপার বিজয় থাপা বলেন, জুনিয়ার ডাক্তারদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন সিনিয়াররা। তাঁরা প্রয়োজনমতো পরামর্শও দিয়েছেন। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর হার প্রতিদিন যে ১০-১২, তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। পুজোর পাঁচদিনে সেই সংখ্যা কীভাবে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেল, তার ব্যাখ্যাও মেডিকেল কর্তপক্ষের কাছে নেই।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুজোর দিনগুলিতে যাতে চিকিৎসা পরিসেবার ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য এই বছর কর্তৃপক্ষ রোস্টার তৈরি করেছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনভাবে সিনিয়ার ডাক্তারদের দেখা পাওয়া যায়নি বলে রোগীর পরিজনদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন ২০ জনের, সপ্তমীর দিন ২১ জনের, অষ্টমীর দিন ১৯ জনের, নবমীর দিন ২০ জনের এবং দশমীর দিন ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্ত হয়েছে ২৫ জনের। পুজোর দিনগুলিতে মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই মেডিকেলের পরিসেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফি-বছর পুজোর সময় কেন সিংহভাগ চিকিৎসক ছুটিতে থাকবেন, রোস্টার তৈরি করা হলেও তা মানা হল না কেন, এমন নানা প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর বাড়ির লোকেরা।

- Advertisement -

বুধবার সকালে ধূপগুড়ির বাসিন্দা রশিদা খাতুনের মৃত্যু হয়। তাঁর স্বামী সিকন্দর আলির বক্তব্য, টিউমার থাকায় বেশ কয়েদিন থেকেই রসিদার পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল। তাই মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছিল। জুনিয়ার ডাক্তাররা জানান দ্রুত অপারেশন প্রযোজন। কিন্তু সিনিয়ার ডাক্তাররা না থাকায় তা হয়নি। এই কারণে রশিদার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে এদিন সিকন্দর এবং তাঁর বাড়ির লোকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মেডিসিন বিভাগের করিডরে পড়ে রয়েছেন অতনু তলাপাত্র। তাঁর অভিযোগ, ৪ অক্টোবর থেকে তিনি করিডরে পড়ে থাকলেও কোনো ডাক্তারই তাঁকে দেখেননি। অসুস্থতার কারণে নিজে গিয়ে ভরতি হতে পারছেন না। কোনো স্বাস্থ্যকর্মীও তাঁকে ভরতির ব্যবস্থা করেননি।

বিহারের ঠাকুরগঞ্জের বাসিন্দা রামঅবতার প্রসাদ বলেন, আমার মেয়ের বুকে ব্যথা হওয়ায় ৭ অক্টোবর ভরতি করি। কিন্তু দুদিন কেটে গেলেও একজন সিনিয়ার চিকিৎসকও তাঁকে দেখেননি। কবে যে ফিরতে পারব, বুঝতে পারছি না। নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। জানা গিয়েছে, সিনিয়ার ডাক্তারদের পাশাপাশি ছুটিতে রয়েছেন হাসপাতাল সুপার কৌশিক সমাজদার। তবে তাতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ডেপুটি সুপার বিজয় থাপা।