দিনমজুরি বাদ দিয়ে নথি সংশোধনের লাইনে দাঁড়িয়ে নাজেহাল

356

জলপাইগুড়ি : এনআরসির আতঙ্কে দিনমজুরি বাদ দিয়ে নথি সংশোধনে লাইনে দাঁড়িয়ে নাজেহাল হচ্ছেন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের ডাঙ্গাপাড়া, বরুয়াপাড়া, জহুরি কলোনি, চৌতুপাড়া, সর্দারপাড়ার এক হাজার দিনমজুর। কাকভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্যাফের লাইনে দাঁড়িয়ে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ করাতে পারছেন না তাঁরা। দিনমজুরদের কাছে নেই স্মার্ট ফোন। অধিকাংশ গ্রামগুলিতে ক্যাফেও নেই। দূরের গ্রামে গিয়ে ক্যাফেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে আব্বাস আলি, সাহেদুল মহম্মদ, মোতিয়ার রহমানদের। বাসিন্দারা জলপাইগুড়ি জেলার। আধার কার্ডে লেখা হয়েছে কোচবিহার জেলা। রেশন কার্ডে ডিলারের নাম ভুল। রেশন দোকান গ্রাম থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্তের গ্রামগুলির বাসিন্দাদের বক্তব্য, আধার কার্ড এবং রেশন কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁদের। এখন গ্রামবাসীদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এনআরসি। ইতিমধ্যেই সর্দারপাড়ার সাবের আলি নামে এক  দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন।

হামিদার রহমান, হাসিনা পারভিন থাকেন সর্দারপাড়ায। ডিজিটাল রেশন কার্ড তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে। রেশন দোকান সন্ন্যাসীহাটের হলেও কার্ডে লেখা রয়েছে জলপাইগুড়ি বেগুনটারির ঝর্ণা সাহার রেশন দোকানের নাম। ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে হামিদারকে জলপাইগুড়ি শহরে এসে রেশন নিতে হবে কার্ড অনুসারে। পরিবারের তিন সদস্য সালেমা খাতুন, দুই সদস্য হোসেনারা বেগমদের ডিজিটাল রেশন কার্ডই আসেনি। দেলওয়ার রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এই ভুলের জন্য গ্রামবাসীদের দীর্ঘ সময় সংশোধন প্রক্রিয়ায় শামিল হতে হচ্ছে। সাহিদুল মহম্মদ বলেন, এনআরসিকে ঘিরে সীমান্তের গ্রামগুলিতে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দিনমজুরদের রোজগার বন্ধ করে ক্যাফেতে ছুটতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, রেশন কার্ড এবং আধার কার্ড সংশোধনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

- Advertisement -

সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য অভিযোগ করেন, বিজেপি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এনআরসিকে ঘিরে। আমরা পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি কার্যকর করতে দেব না। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, জলপাইগুড়ি জেলাতে এনআরসিকে ঘিরে আত্মহত্যার ঘটনার জন্য বিজেপি দায়ী। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হবেই। এখানে বসবাসকারী যাঁদের নথি নেই তাঁদের বিজেপি সরকার বিশেষ আইন করে নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করবে।