তর্পণে ‘না’ দক্ষিণেশ্বর মন্দির কমিটির, বদল দর্শনের সময়সূচিতেও

311

কলকাতা: করোনা আবহে মহালয়ার ভোরে সামাজিক দূরত্ব মেনে তর্পণ আদৌ কি সম্ভব, তা নিয়ে ধন্দে ছিল প্রশাসন থেকে শুরু করে দক্ষিণেশ্বর মন্দির কমিটি। এরপরই সংশয়ের জট কাটিয়ে মহালয়ার আগে তর্পণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পূর্বেই নিয়ে ফেলে দক্ষিণেশ্বর মন্দির কমিটি। এবার মন্দিরের তরফে জানানো হল, পঞ্চবটী ঘাট, সীমার ঘাট ও চাঁদনী ঘাট মহালয়ার দিন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মহালয়ার ভোরে সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরও। তবে বেলা ৩টে থেকে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন মন্দির চত্বরে। দর্শন করতে পারবেন মা ভবতারিণীর মৃণ্ময়ী রূপ।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ‘মহালয়ার দিন যেহেতু প্রতি বছর প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন, তাই ভক্তদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরো দিনটার জন্য মন্দির বন্ধ রাখা হচ্ছে না। যেহেতু সকাল থেকে মন্দির বন্ধ থাকবে, তাই বিকেলে যথেষ্ট ভিড় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।’

- Advertisement -

তিনি আরও জানান, করোনাবিধি মেনেই ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশ করানো হবে। এতদিন সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেলে ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকত। কিন্তু এ বার সেই সময়ে বদল করে সকাল ৬.৩০টা থেকে বেলা ১২.৩০ এবং বিকেল ৩.৩০টে থেকে ৭.৩০টা পর্যন্ত মন্দির খোলা রাখা হবে। পাশাপাশি, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে মন্দির কর্তৃপক্ষকে মহালয়ার দিন দর্শনার্থীদের জন্য মন্দির বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবেই সম্মতি দিল মন্দির কমিটি।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে বন্ধ ছিল রাজ্যের সমস্ত ধর্মস্থান। পরবর্তীতে আনলক পর্যায়ে একে একে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। খুলে যায় মন্দিরের দ্বার। তবে সেক্ষেত্রেও একাধিক নিয়ম মানতে হচ্ছে প্রত্যেককে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের প্রবেশের সময়। বেঁধে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের সংখ্যা। একই নিয়ম মেনে ১০ জুন খোলে দক্ষিণেশ্বর। ১৩ জুন থেকে দর্শনার্থীরা প্রবেশের অনুমতি পায়। কিন্তু ভক্তরা পুজোয় ফুল দিতে পারতেন না। সিঁদুর, চরনামৃতও দেওয়া হত না দর্শনার্থীদের। বছরের অন্য সময় এভাবে নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হলেও মহালয়ার দিন ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে না বলেই মনে করছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই এবছর মন্দিরের ঘাটগুলিতে তর্পণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।